শিরোনাম
শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী সংবাদদাতা | ২২:০০, মার্চ ১৮, ২০২০
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল, শিলকুপ ও জলদীর আংশিক এলাকায় প্রয়োজনীয় সেচের অভাবে প্রায় ২ হাজার ৮শত কানি জমির বোরো ধান শুকিয়ে বিবর্ণ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জমির রোপা বোরো ধান মরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে সেচ সংকট মোকাবেলার জন্য ভুক্তভোগী কৃষকগণ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, দক্ষিণ জলদী দোসারি পাড়া ডাকবাংলো ২৬ নম্বর ব্লক, দক্ষিণ জলদি ১৯ নম্বর ব্লক বিলে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা না থাকা ও বিল এলাকায় কৃষকের রোপনকৃত ধানি জমিতে ফাঁটল ধরে চৌচির হয়ে পড়ায় আশংকা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা।
সরেজমিনে দক্ষিণ জলদি বিল এলাকার ডাকবাংলো বিল, চাম্বলের মোহর ঘোনা, বাগিচার বিল, শীলকুপের মাতব্বর পাড়া-১ নম্বর ব্লক, মাতব্বর পাড়া সিকদার বিল ২ নম্বর ব্লক, মৌলানা বিল, গোন্ডার বিল, আংশিক মাইজ পাড়া, নুরুদ্দিন সিকদার পাড়া ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে বোরো ধানক্ষেতে এখন ভরপুর পানি থাকার কথা থাকলেও পানি সংকটে ধানি জমি গুলো। কিন্তু ডাকবাংলো দোসারী পাড়া বিলে পর্যাপ্ত পানি তো দূরের কথা, মাঠের পর মাঠ ধানি জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বিলের সংযোগ সেচ ক্যানেল থেকেও তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। যৎ সমান্য পানি ছেড়ে দিলেও তা বিলে পৌছানোর আগেই ছড়ায় বিলিন হয়ে যায় বলে অভিযোগ তুলেন স্থানীয় কৃষক। বিলে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান গাছগুলো পানির অভাবে লালচে রং ধারণ করেছে। এ দৃশ্য দেখে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে বিল পাড়ের কৃষকরা।
জলদী দোসারী পাড়া বিলের কৃষক জিয়াউর রহমান, মুহাম্মদ ছালেক, হেলাল উদ্দীন, নজির আহমদের সাথে কথা বললে তারা জানায় দক্ষিণ জলদীর ২টি ব্লকে প্রায় ৬০ কানি মতো জমিতে বোরোচাষ হয়েছে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পূর্বে বিলের পানি শুকিয়ে গেছে। বর্তমানে বিনা সেচেই তাদের জমির ধান শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। তারা এখন সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার দিকে চেয়ে রয়েছেন, সৃষ্টিকর্তা তার রহমতের বৃষ্টি দিলে কিছুটা হলেও মৌসুমের কষ্টের ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
পানি ব্যবস্থাপনার কৃষক প্রতিনিধি মুহাম্মদ মোহছেন জানান, শিলকুপের মালেকের বিল, দিঘীর বিল, মাইজপাড়ার ৫,৬,৭ নং বিল, পূর্ব শিলকুপ মৌলভী বিল, মনকিচরের সবজির বিল, মহাব্বত পাড়ার সবজির বিল সহ বেশকিছু জমিতে বোরোচাষ হয়েছে। বিল এলাকায় বোরো চাষিদের জন্য সহজ শর্তে টাকা নিয়েও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ দিতে পারছিনা। থানা ইন্জিনিয়ারকে বার বার বিষয়টি অবগত করলেও তিনি প্রধান গেইটের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বামের ও ডানের ছড়ার পানি সরবরাহ করতে অপারগ বলে জানান।
একই ভাবে শিলকুপ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক সভাপতি রবিউল হোসেন জানান, শিলকুপ-চাম্বল-জলদী এলাকার প্রায় ২ হাজার কানি জমির জন্য দৈনিক কমপক্ষে ৫০ হাজার মেট্রিকটন পানির প্রয়োজন। কিন্তু কৃষকেরা পানি পাচ্ছে ১০ মেট্রিকটনেরও কম। এ অবস্থায় পানিশুন্যতায় ফসলী জমিতে ফাটল ধরেছে।
বামের ও ডানের ছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাবেক কোষাধক্ষ্য বদিউল আলম জানান, বামের ও ডানের ছড়ার পানি দিয়ে জলদি, শিলকুপ, চাম্বলের প্রায় ২৮শত কানি বোরো ধানের চাষ হয়। তার মধ্যে উপজেলা ইন্জিনিয়ার (এল,জি,ই,ডি) পানির গেইট বন্ধ রেখে কৃষকের ধানি জমিতে পানি না দিয়ে জমির ধান নষ্ট করে দিচ্ছে। আমি বেশ কয়েকবার বলার পরও এখনও পর্যন্ত পানি না ছেড়ে কৃষকদেরকে জিম্মি করে রখেছে। তাই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভূইয়া জানান, বামের ও ডানের ছড়া লেকের প্রধানগেইটের ত্রুটির কারণে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে সক্ষম হচ্ছিনা। বিকল্প হিসেবে ৪ ইঞ্চির ৩ টি পাইপ বসিয়ে আপাতদ পানি সরবরাহ করছি।
তিনি আরো বলেন, পাইপের মাধ্যমে পানি শুকিয়ে পরবর্তী প্রধান গেইটের মেরামত করা হবে। এখন গেইট তুলে পানি ছাড়লে মারাত্মক দূর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited