শিরোনাম
এম হোসাইন মেহেদী, লোহাগাড়া সংবাদদাতা | ২৩:১১, মার্চ ৩০, ২০২০
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পুটিবিলা, চরম্বা ও কলাউজানের হাঙ্গর ও টংকাবতী খালের চর এলাকার সবজি খুবই সুস্বাদু, মানেও ভাল। বিশেষ করে টংকার চরের বেগুন ক্রেতাদের কাছে আলাদাভাবে সমাদৃত। কিন্তু এসব এলাকায় এখন সবজির বদলে চলছে তামাক চাষের আগ্রাসন। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাক চাষ কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। তামাক উৎপাদন কমাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রচেষ্টা বলতে কেবল কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
জানা যায়, বিভিন্ন কোম্পানীর লোভনীয় ফাঁদে পা দিয়ে তামাক চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে সাময়িক অর্থ চাহিদা মেটাতে পারলেও তামাকের দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষ। দেশের শীর্ষ তামাক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো উর্বর জমিতে তামাক চাষে কৃষকদের প্রলুব্ধ করছে। এতে অতিরিক্ত লাভের আশায় সাধারণ ফসলের পরিবর্তে তামাক চাষ করছে স্থানীয় চাষীরা।
কলাউজান এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতি কানি (৪০ শতক) তামাক চাষে খরচ পড়ে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা আর সেই তামাক বিক্রি করে ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পাওয়া যায়; যা অন্য ফসলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভজনক। তাছাড়া তামাক চাষের জন্য চাষীদের বিভিন্ন কোম্পানি অগ্রিম টাকা-পয়সা দিয়ে থাকে। তাই স্থানীয় চাষীরা বেশি লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পুটিবিলা ইউনিয়ন, চরম্বা ও কলাউজানের হাঙ্গর ও টংকাবতী খালের দুই তীরের চরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তামক চাষ হয়। গত বছর উপজেলার এসব এলাকায় ১৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এবছর তা কমে ১১ হেক্টরে জমিতে তামাক চাষ হয়েছে বলে জানা যায়।
কলাউজান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বলেন, কলাউজানের পূর্ব সীমানা থেকে টাংকাবতীর খালের পার্বত্য এলাকার চিম্বুক কালা পাহাড় পর্যন্ত দুই তীরবর্তী চরে ব্যাপক তামাক চাষ হয়। তামাক পাতা মাঠ থেকে আনার পর তা আগুন দিয়ে জ্বালানোর দরকার হয়। এর জন্য স্থানীয় বনা ল থেকে কাঠ সংগ্রহ করার ফলে বৃক্ষশূণ্য হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ সবুজ এলাকা। এছাড়া পাতা ছাড়ানোর পর তামাক গাছের আঁটিগুলোকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে থাকে স্থানীয়রা। এসব জলন্ত আঁটি থেকে নির্গত ধোঁয়া মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে স্থানীয় লোকজনের। তিনি বলেন, তামাকজাত পণ্য গ্রহণ একধরণের নেশা। এ নেশা থেকে বিরত রাখতে মানুষকে সচেতন করতে হবে। তামাক উৎপাদন ঠেকাতে হলে প্রথমে এর চাহিদা কমাতে হবে। চাহিদা না থাকলে উৎপাদন এমনিতেই কমে যাবে। প্রয়োজনে সরকারকে বিশেষ আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, তামাক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মানুষ তা জেনেও গ্রহণ করে থাকে । তামাক মূলত হৃৎপিন্ড, লিভার ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ধূমপানের ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ ও ক্যান্সার (বিশেষত ফুসফুসের ক্যান্সার, ল্যারিংস ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার) এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। তামাক গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপ ও প্রান্তীয় রক্তনালীর রোগ হতে পারে। সুস্থ্য জীবনযাপন করতে চাইলে তামাক পরিহার করার কোন বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা চাষীদের তামাক চাষের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে থাকি। তামাকের পরিবর্তে ভূট্টা, সরিষা ও বিভিন্ন সবজি চাষে পরামর্শ দিয়ে থাকি। তামাক কোম্পানির লোকজন চড়া দামে তামাক কিনে নেয়। তাই কৃষকরা অতিরিক্ত লাভের আশায় তামাক চাষ করে থাকে বলে তিনি জানান।
Developed By Muktodhara Technology Limited