শিরোনাম
ঢাকা ব্যুরো | ২০:২৮, জুন ৩, ২০২০
আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের অন্যতম। আশির দশকে এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ৯০এর সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এবং বিংশশতাব্দীতে জামায়াত- বিএনপি জোট সরকার পরবর্তিতে জরুরী আইনে সেনাশাসকের বিরুদ্ধে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আনন্দোলনেই হামলা- মামলা আর জেল জুলুমের শিকার হয়েও জনমানুষের নেতা হিসেবেই সকল আনন্দোলনেই জয়ী হয়ে আজও কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী যুবলীগের বিজয় কেতন উড়িয়ে।
১৯৮৪ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু। এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ থেকেই গড়ে উঠেছেন মধু। পিতা একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি১৯৭১ সালে ততকালীন ইপিআরের কোয়াটার মাস্টার ছিলেন। ৭১এর ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকহানাদার বাহিনী তাদের বসবাসের গনকটুলির বাড়িটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এরপর তার পিতা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন।স্বাধীনতার পর বিডিআর এ (বর্তমান বিজিবি) কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় বিশ্বাসী মধুর পরিবারের সবাই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত।
আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সিনিয়র সহ- সভাপতি। যুবলীগের চেয়ারম্যান ড.ফজলে শামস পরশ এবং তারই অনুজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস দেশে সাধারণ ছুটিকালিন করোনা মহামারি সময় ঢাকার কর্মহীন, অসহায় দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে খাদ্য সহায়তার নির্দেশ দেন। এরপরই মধু ঢাকা দঃ যুবলীগের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড এর নেতাদের নিয়ে ত্রাণ কমিটি গঠন করে নেমে পড়েন মানবতার সেবায়। গত আড়াই মাস ধরে ঢাকা দঃ সিটি করপোরেশনের ২৪টি থানার ৫৩টি ওয়ার্ডের ৬৮ টি স্পটে প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। যার মধ্যে অসহায় বিপদগ্রস্ত কারো কাছে হাত পাততে আসবেন না, খোঁজখবর নিয়ে এমন ৪ হাজার পরিবারকে গোপনে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন বলে আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু সিটিজি সংবাদ ডট কমকে জানান।
ত্রাণ বিতরণকালিন সময়ে ঢাকার শ্যামপুর,কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় যখন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামীলীগের নেতা- কর্মীরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছিলেন এবং অনেকে জীবন উৎসর্গ করছিলেন তখনও থেমে যাননি আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু। তিনি তার যুবলীগের বাহিনী নিয়ে অব্যাহত রেখেছেন ত্রাণ বিতরণ।
আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু বলেন, ৭১ এ ছোট শিশু ছিলাম। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারিনি কিন্তু এখন করোনার বিরুদ্ধে জীবন বাঁচা- মরার যুদ্ধে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের মতোই মানবতার সেবায় গত আড়াই মাস করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি নিয়েই ঢাকা দঃ সিটি করপোরেশনের ২৪টি থানায় ২৭হাজার ৪শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি।
এ ছাড়া ঈদের সময় দুঃস্থ অসহায় মানুষের মাঝে ৩ হাজার শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণ ছিলো যেন ৭১এ মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মতোই আনন্দ।
তিনি বলেন, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ছাড়াও প্রথম থেকেই আমরা স্বাস্থ্য সচেতনায় যুবলীগের পক্ষ থেকে লিফলেট, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত দোয়ার সাবান ও মাস্ক বিতরন করেছি।
মধু বলেন, আমার বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে তাবলিগ জামাতের একটি দল করোনাকালীন সময়ে কিছুদিন ছিলো। এরপর ওই ফ্ল্যাটের বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়। ফ্ল্যাট লকডাউন করা হলেও আমি ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখি।আমার দৃঢবিশ্বাস ছিলো মানবতার সেবায় কাজ করলে মহান আল্লাহ আমাদের সহযোগিতা করবেন। সৃষ্টি কর্তার প্রতি আমাদের বিশ্বাস আর আস্থা রেখেই আমরা যুবলীগের সবাই প্রতিদিন ঢাকার ২৪ টি থানার ৬৮টি স্পটে কখনো ঘরে ঘরে দিনে অথাবা রাতে খাদ্য পৌছে দিয়েছি কর্মহীন পরিবারের কাছে।
তিনি বলেন, আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতির আইকন যুবলীগ চেয়ারম্যান ড.ফজলে শামস পরশ ও ঢাকা দঃ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে সচল ঢাকা কর্মসূচি বাস্তবায়নে নির্বাচনের পূর্বে ঘোষিত ইশ্তেহার সকল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।
নগর পিতা নয়, নগর সেবক হিসেবে ২৪ ঘন্টাই জনসেবায় নিয়োজিত রাখার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আমাদের নেতা ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
তিনি বলেন, আমাদের তরুণ সমাজ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকাবাসীর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত হয়ে আছে।
Developed By Muktodhara Technology Limited