শিরোনাম
প্রতিবেদক | ১২:৪৪, জুন ২৯, ২০২০
'তোমার যা ভাল লাগে তা জগৎকে দান কর, বিনিময়ে তুমিও ভাল জিনিস লাভ করবে।' কথাটির যথার্থই প্রমাণ পাওয়া গেল চট্টগ্রাম রাউজানের একটি ঘটনায়।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে যখন সারাবিশ্ব স্থবির। দেশেও মনে হয় একটু লম্বা সময়ের জন্য একরকম অঘোষিত লকডাউনের শিকার সাধারণ মানুষ। অধিকাংশই এত লম্বা সময় ঘরে বসে থাকার যোগ্যতা রাখে না। তাদের খাদ্য ও অর্থ শেষ হয়ে অভাবে পড়বে স্বাভাবিক। এ অবস্থায় দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বেকার। সরকারের নিয়মিত ও বিশেষ সাহায্য অনেকেই পাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি ও বিবেকসম্পন্ন দায়িত্বশীলরা এখনো সাহায্য পৌঁছাচ্ছেন। তারপরেও অভাবের তাড়নায় অনেকে জীবিকার খুঁজে রাস্তায় নেমে পড়েছে বহু শ্রমজীবি।
জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া এ রকম পঞ্চাশ বছরের ঊর্ধ্বে এক রিক্সাচালকের সাথে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা ঘটলো। তাও আবার সদ্য করোনা আক্রান্তের শিকার রাউজানের সাংসদ ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ফারাজ করিম চৌধুরী'র সাথে।
প্রতিদিনকার মতো কয়েকদিন আগে নিজ এলাকায় হাঁটতে বের হয়েছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদ ফারাজ করিম চৌধুরী। স্বাস্থ্যবিধি মেনে হেঁটে চলে গেলেন অনেকটা পথ। পথের মোড়ে দেখা মিলে এক রিক্সা চালকের। চাচার কপালে ভাঁজ। মুখে কালো মাস্ক তবে একটু নিচে পরা। কুশল বিনিময় করতেই দেখা গেলো চাচার সামনের দুটি দাঁতও পড়ে ফাঁক রয়েছে। পেটের দায়ে পিটে সয়না তাই হয়তো লকডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে রিক্সা নিয়ে বের হলেন তিনি।
সবকিছু অবলোকন করে কষ্টে রয়েছ মনে করে তরুণ রাজনীতিবিদ ফারাজ করিম চৌধুরী কিছু দিতে চাইলেন চাচার হাতে। কিন্তু বাধ সাধল চাচা। স্বভাবসুলভ রিক্সা চালকের জবাব, তিনি বিনিময় ছাড়া শুধু শুধু কোন মানুষের দান গ্রহণ করেন না। একটু অবাক হলেন ফারাজ। মনে মনে ভাবল এ জগতটা মনে হয় এখনো ঠিকে রয়েছে এসব মানুষের জন্য। যারা মানুষ। তবে আমাদের মতো সাধারণের চোখে তাঁরা অতি সাধারণ কিন্তু তাঁদের বিবেক, মনুষ্যত্ব আর সততা অতি অসাধারণ। অনেক উপরের স্থানে।
এসব ভাবতে ভাবতে এমপি পুত্র ফারাজ রিক্সা চালককে বল্লেন, চাচা আমাকে তাহলে একটু বাসায় পৌঁছে দিন। কথা শোনে বয়োবৃদ্ধ চাচা শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে রিক্সার প্যাডেলে পা চালালেন। রিক্সা চলছে.., যতই চাচার পা চলছে, ততই ফারাজ করিমের দু'চোখে অশ্রুগ্রন্থির জল চোখের মণিকে আর্দ্রতায় চেপে ধরেছে ...
কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় পৌঁছে গেলেন তিনি। পরে রিক্সাওয়ালা চাচার হাতে তুলে দিলেন খাদ্য সামগ্রীর একটি বড় প্যাকেট। যা দেখে ভেজায় খুশি চাচা। মুখে এক ভুবন জয়ী তৃপ্তির হাসি। এমনি এমনি কারো করুনা বা দান নয়। প্রতিদান ছিলো রিক্সায় চড়ালেন অনেকটা পথ! তাই এই উপহার জানালেন ফারাজ।
যদিও এ ঘটনার পরেরদিন রাউজানের সাংসদ পুত্র ফারাজ করিম চৌধুরী করোনার শিকার হয়ে নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। উল্লেখিত ঘটনাটি সংঘঠিত হওয়ার পরের দিন রিক্সাচালকের সেই ছবিসহ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। যা লিখেছেন তিনি তা প্রচাররীতি অবিকল রেখে হুবহু তুলে ধরা হলো পাঠকের চোখের সামনে...
"অনেকেই মনে করে যে, 'আমার তো সামর্থ্য নেই, আমি কিভাবে একজন মানুষকে সাহায্য করবো?' তবে সত্য কথা হচ্ছে, সামর্থ্য বেশিরভাগ মানুষেরই আছে। তুলনামূলকভাবে কারো বেশি আর কারো কম। আমি নিজেও ছোটবেলায় মনে করতাম যে, অল্প টাকার বাজার দিয়ে আমি কার কতটুকুই বা লাভ করতে পারবো!? এই চিন্তা করে আমার মতো যারা ঘরে বসে ছিলেন তাদের জন্য এই ছবি। হাসিটা একবার দেখেন তো চাচার?
যাই হোক এটা যদি দান হতো অবশ্যই চেহারা ঢেকে দিতাম। তবে এটা দান নয়। চাচা প্রতিদান ছাড়া কিছু নিবে না বলে আমাকে জানালো, রিকশা করে বিনা ভাড়ায় বাড়ীতে দিয়ে আসবে। তাই করলো। উনারও মানসম্মান বেঁচে থাকলো আর আমিও আরামে বাড়ীতে পৌঁছে গেলাম।"
Developed By Muktodhara Technology Limited