শিরোনাম
জে.জাহেদ, বিশেষ প্রতিবেদক | ১৯:৫৬, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর পাঁচ ইউনিয়নের অলিগলিতে শত শত লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। আর এসব অটোরিকশা চালকদের অধিকাংশই শিশু-কিশোর।
অটোরিকশাগুলোর নেই ফিটনেস, রোড পারমিট ও চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। যে কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। গাড়ি হিসেবে এসব যানবাহন স্বীকৃতি না পেলেও দেশের আনাচে কানাচে এসব রিক্সার ছড়াছড়ি।
এসব অদক্ষ চালকদের অনেকেরই প্রতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা না থাকায় যাত্রীদের সাথে চালকদের ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। ভাসমান বহু অদক্ষ রিকশা চালকদের অনেকেই জোর করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এসব অটো রিকশা চালকদের কোনো লাইসেন্স প্রদান করা না হলেও উপজেলায় রিকশা চালনায় শিশু চালকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ কর্তৃক সিএনজি চালকদের ভাড়া নির্ধারণের একটি তালিকা সই করলেও অটো রিকশা চালকদের কোন ভাড়া নির্ধারণ নেই। তাদের ইচ্ছেমতো বেপরোয়া চলাচল ও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
উপজেলায় রিকশা চালকেরা ১০ টাকার ভাড়ার জায়গায় ২০-৩০ টাকা আদায় করে থাকে। অথচ সিএনজিতে সেই ভাড়া ৫ টাকা। যাত্রীরা চালকদের কথা মতো ভাড়া না দিলে অনেক রিকশা চালক যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। রিকশা চালকরা উপজেলার চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট, কাঁচাবাজার, ইছানগর বিএফডিসি গেইট, শিকলবাহার কালারপোল মোড়, মাস্টারহাট, জুলধা পাইপের ঘোড়া ও ফকিরন্নিরহাট রাস্তার মাথায় এবং বিভিন্ন অলি-গলিতে এলোমেলোভাবে রিকশা রাখে। ফলে পথচারীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসব অটো রিক্সা বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাপক যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে। এসব রিকশার নেই কোনো নির্ধারিত স্ট্যান্ড।
রিকশা যাত্রীদের অভিযোগ, ছোট শিশু কিশোররা রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে রাস্তার এপাশ-ওপাশ, ডান-বাম, সাইট কিছুই চেনে না। তবুও তারা রিকশা চালক। পারা রাস্তায় অতি দ্রুত গতিতে রিকশা চালাতে গিয়ে বহু দুর্ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু রিকশা মালিক চক্র রাতের বেলা অবৈধভাবে সরকারি বিদ্যুৎ দিয়ে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করেন। এ রকম কয়েক শতাধিক অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে কর্ণফুলীতে। এরা চুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও সে বিদ্যুৎ বিল অতিরিক্ত মিটার দেখে পরিশোধ করতে চালিয়ে দেয়া হয় গড় বিল হিসেবে সাধারণ গ্রাহকের পিঠে। এ সুযোগে অর্থের লোভ দেখিয়ে সুকৌশলে এসব শিশু-কিশোরদেরকে রিকশা চালাতে বাধ্য করে। উপজেলার সচেতন মহলের দাবি প্রশাসনের কঠোর নজরদারী না থাকায়, অথবা মাসিক মাসোহারায় এসব শিশু কিশোর চালকরা অবৈধ রিকশা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এতে দিন দিন জঞ্জাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব।
উপজেলার মানবাধিকার কর্মী মো. ইয়াকুব বলেন, কর্ণফুলীর সর্বত্র লাইসেন্সবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট ছোট বাচ্চারা অগণিত রিকশা-অটোরিকশা চালাচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদ বিধি মোতাবেক লাইসেন্স প্রদানসহ ভাড়ার তালিকা দৃষ্টিগোচর স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়ার বিধান থাকলেও তা পালন করা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে বার বার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এ ব্যাপারে যেনো অচিরেই স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
Developed By Muktodhara Technology Limited