image

আজ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

সরকারী বনায়নের গাছ-কাঠে ১১ অবৈধ টলার নির্মাণ

এম.জুবাইদ, পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    |    ২০:২৯, অক্টোবর ৪, ২০২০

image

কক্সবাজারের পেকুয়ার পশ্চিম টইটং খালের তীরবর্তী বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে তৈরী হচ্ছে ১১টি ফিশিং ট্রলার। সরকারী বনায়নের গাছ ও কাঠ ব্যবহার করে অবৈধভাবে এসব ফিশিং ট্রলার তৈরী হলেও ‘রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকায় রয়েছে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন! দীর্ঘদিন ধরে বন নিধনের সাথে জড়িত স্থানীয় একাধিক সিন্ডিকেট সরকারী বনাঞ্চল থেকে মাদার ট্রি গর্জন, বিভিন্ন প্রকার গাছ কাঠ কেটে এসব অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজে নির্বিচারে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৭/৮ কিলোমিটারের ভিতরেই এসব ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজ চলমান থাকলেও স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসন নিরব রয়েছে। ফলে বন নিধনকারী চক্র বেপরোয়াভাবে অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই পেকুয়ার বনাঞ্চল বৃক্ষশুণ্য হয়ে বিরাণভূমিতে পরিণত হবে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।

অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ ও চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের অধিন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জ এবং চনুয়া রেঞ্জে কর্মরত কতিপয় অসৎ কর্মচারীকে ম্যানেজ করে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে পেকুয়া উপজেলা বিভিন্নস্থানে অবৈধভাবে ফিশিং ট্রলার তৈরীর ব্যবসা চালাচ্ছে। এক একটি ফিশিং ট্রলার তৈরী শেষে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। সারা বছরই পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর তীরে বন বিভাগের অনুমতি ব্যতিত অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরীর রমরমা বানিজ্য চললেও তা বন্ধে স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসন কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে দুর্লভ ও মুল্যবান গর্জন গাছ (মাদার ট্রি) কেটে লম্বা তক্তা চিরাই করে ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজে ব্যবহার করছে। প্রতিটি ফিশিং ট্রলারেই বনাঞ্চলের গাছ ও কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পশ্চিম টইটং খালের বেড়িবাঁধের উপরে বড় আকারের ১১টি ফিশি ট্রলার অবৈধভাবে তৈরী করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া উপজেলার পশ্চিম টইটং ও দক্ষিণ পুইছড়ি এলাকার অবৈধ স’মিল ব্যবসায়ী আলমগীর, মহিউদ্দিন, রুবেল, রহমত উল্লাহ, বাহার উদ্দীন, বাদুর, জহির ও মুকছুদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট টইটং খালের বেড়িবাঁধে ওই ১১টি ফিশিং ট্রলার তৈরীর কাজ করছে। ফিশিং ট্রলার তৈরীতে বন বিভাগের লিখিত অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা কেউ অনুমতি নেয়নি। স্থানীয় বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের ম্যানেজ করে চোরাই পথে গাছ ও কাঠ এনে তারা অনেকটাই বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে এসব ফিশিং ট্রলার তৈরী করছেন।

ফিশিং ট্রলার তৈরীর সাথে জড়িত কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিনিধিকে জানান, প্রতিটি ফিশিং ট্রলার তৈরীর ক্ষেত্রে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মচারীদের ১০ হাজার ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। বন বিভাগের কর্মচারীরা মাঝে মাঝে এসে টাকা নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের চনুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব ফিশিং ট্রলার তৈরীর সরকারী কোন অনুমতি নেই। বন বিভাগের কর্মচারীরা ফিশিং ট্রলার তৈরীর সাথে জড়িতদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে ট্রলার তৈরীর সুযোগ করে দিচ্ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ও তার অফিসের কোন কর্মচারী এ ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নাই।

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম গোলাম মাওলার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরী হচ্ছে কিনা তার কাছে কোন তথ্য নাই। এগুলো চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের কাজ। তারাই ভাল জানতে পারবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের আওতাধীন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পেকুয়া উপজেলার যে সব স্থানে অবৈধ ফিশিং ট্রলার তৈরী করা হচ্ছে তা উপকূলীয় বন বিভাগের আওতাধীন এরিয়ায় পড়ছে। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

০১:১৭, মে ১৪, ২০২২

বাঁশখালী ইউপি নির্বাচনে নৌকায় শেষ হাসি যাঁদের


Los Angeles

০০:৩০, মে ১৪, ২০২২

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ঘেষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া


Los Angeles

১৬:২৬, অক্টোবর ১৬, ২০২১

বীর নিবাস পাচ্ছেন বাঁশখালীর ১০ মুক্তিযোদ্ধা


Los Angeles

২০:৩৩, অক্টোবর ১৩, ২০২১

তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বিপাকে বাঁশখালীর এক দরিদ্র পরিবার


Los Angeles

১১:২৪, অক্টোবর ১০, ২০২১

সীতাকুন্ড ইউপি নির্বাচন : নৌকা দাবি ৪৩জনের


Los Angeles

২০:১৯, অক্টোবর ৮, ২০২১

আবিষ্কারের বিস্ময় বালক বাঁশখালীর আশির, প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা


Los Angeles

২১:৩৮, অক্টোবর ৭, ২০২১

করোনাকালে বাল্যবিয়ে : পড়ালেখায় ইতি টেনে অনেক কিশোরী এখন পুরোদস্তুর সংসারী


image
image