শিরোনাম
আনোয়ারা প্রতিনিধি | ২০:০২, ডিসেম্বর ১২, ২০২০
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের দৃশ্য বদলে যাবে। চীনের সাংহাই নগরীর মতো চট্টগ্রাম হবে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’। পাহাড় আর সাগর মোহনায় চট্টগ্রাম পাবে নবরূপ। নদীর ওপারে গড়ে উঠবে আরেক চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় রাজধানী চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আবাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউব স্থাপনের কাজ আনোয়ারা প্রান্তে ভার্চুয়ালি উদ্ভোধন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন । এসময় সেতু মন্ত্রীর সাথে ভার্চুয়ালি উদ্বোধনে অংশ নেন আনোয়ারা-কর্ণফুলীর সংসদ সদস্য ভূমি মন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং আনোয়ারা প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব মো. বেলায়েত হোসেন, টানেলের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদসহ কর্মকর্তাগণ।
জানা যায়, ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৩১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের এরইমেধ্য টানেলের ৬১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আনোয়ারা প্রান্তের প্রথম টিউব থেকে ১২মিটার দূরে শেষ টিউবটি নির্মাণ করা হচ্ছে। মাটির ১৮ মিটার থেকে ৪৩ মিটার নিচ দিয়ে যাবে টানেল বোরিং মেশিন। প্রায় তিন তলা সমান উঁচু চীন থেকে আনা বিশাল টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) এরই মধ্যে বসে গেছে আনোয়ারা পয়েন্টে। সেখানে ১২ মিটার গভীরে বসানো হয়েছে মেশিনটি। সেখানে খনন শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৩ মিটার বা ১৪০ ফুট গভীর পর্যন্ত চলে যাবে। টিবিএম আনোয়ার প্রান্ত থেকে নদী তলদেশে ঢুকে আরেকটি দুইলেনের সড়ক খোদাই করে পতেঙ্গা অংশে বের হবে। চলমান উন্নয়ন কাজ তদারকির কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকৌশলী জানান, টানেলের আনোয়ারা অংশের সংযোগ সড়কের কাজ ৪০% শেষ হয়েছে। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কে ১২ টি কার্ভাট, ১ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, ৪ টি আন্ডারপাশ নির্মাণের কাজ চলছে। মূল সড়কের বালু ফিলিং কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১ বছরের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই টানেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। এ টানেল বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। টানেলের নামকরণ হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’। চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটির নির্মাণকাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। ২০২২ সালে টানেল নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা।
Developed By Muktodhara Technology Limited