শিরোনাম
মো.কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ প্রতিনিধি | ১২:৩০, ডিসেম্বর ১৫, ২০২০
স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর ২০০৮সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া জামিজুরী বধ্যভূমিতে যাওয়ার জন্য দৈর্ঘ্যে ৩শ ফুট ও প্রস্থে ৫ফুট জায়গা নির্ধারিত করে রেখে দিয়েছেন শহীদ বগলা প্রসাদ ভট্টাচার্যের পরিবার।
স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার আলবদরদের হাতে শাহাদাত বরণকারী দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী বধ্যভূমির শহীদদের পরিবার পরিজনের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখার গরজ অনুভব করেননি কেউ। এমনকি সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রীয় কোন আনুকূল্য এসব পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি। অথচ পাক হানাদার বাহিনী লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিলো ১৫জন নিরপরাধ বাঙালিসহ আরো অনেককে। মৃত্যুর পর এসব বাঙালিরা তাদের স্বাভাবিক ধর্মীয় আচার থেকেও বঞ্চিত হয় নরপশু পাক হানাদার বাহিনীর পাশবিকতার কারনে। পাক হানাদার বাহিনীর নির্মমতার বলি দেশের জন্য আত্মদানকারী শহীদদের তখন একটি গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলা হয়।
স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর ২০০৮সালের ২৬মার্চ ৩৮তম স্বাধীনতা দিবসে জামিজুরী বধ্যভূমির স্মৃতিফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উম্মোচন করেন চন্দনাইশ উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ খালেদ রহিম। সেই অনুষ্ঠানে জনাব খালেদ রহিম বলেছিলেন, "দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে যা করণীয় তা করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" জামিজুরী বধ্যভূমিকে ঘিরে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি সৌধ গড়ে তোলা হলেও সেখানে যাওয়ার জন্য কোন সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। সড়ক নির্মাণের জন্য শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে যায়গা নির্ধারিত করে রাখা হলেও অদ্যাবধি সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় আলোক প্রজ্জ্বলন করতে শহীদ পরিবারের বাড়ির আঙ্গিনা দিয়ে দর্শনার্থীদের যেতে হয়।
প্রসঙ্গতঃ ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল, বাংলা ১৩৭৮ সালের ১৪ই বৈশাখ পাক হানাদার বাহিনী তৎকালিন পটিয়া (বর্তমানে চন্দনাইশ) থানার দোহাজারী'র জামিজুরী গ্রামে নারকীয় তান্ডবলীলা চালিয়ে ১৩ জন নিরপরাধ নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। এতে শহীদ হন ডাঃ বগলা প্রসাদ ভট্টাচার্য, কবিরাজ তারাচরণ ভট্টাচার্য, মাষ্টার প্রফুল্ল রঞ্জন ভট্টাচার্য, মাষ্টার মিলন ভট্টাচার্য, বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য, রেনু বালা ভট্টাচার্য, ডাঃ করুনা কুমার চৌধুরী, হরি রঞ্জন মজুমদার, মহেন্দ্র সেন, নগেদ্র ধুপী, রমনী দাশ ও অমর চৌধুরী।
স্থানীয় এলাকাবাসী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাশগুলো একত্রিত করে একটি গর্তে সমাধিস্থ করে। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাস মজুমদার (উত্তর আমিরাবাদ), বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কান্তি দাশ (নলুুয়া) এবং মনীন্দ্র দাশ (মুজাফরাবাদ) এর দেহাবশেষও এখানে সমাধিস্থ করা হয়
Developed By Muktodhara Technology Limited