শিরোনাম
সীতাকুন্ড প্রতিনিধি | ২১:৩৪, এপ্রিল ২১, ২০২১
সীতাকুণ্ডে ভূমি সংক্রান্ত আইন উপেক্ষা করে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালী মহল ও ভূমিদস্যু ব্যবসায়ী চক্র। এতে কৃষি জমির উর্বরতা হারিয়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে শত শত একর ফসলি জমি।
ফসলি জমির টপসয়েল ছাড়াও খাল, ছড়া, পাহাড়, সড়কের পাশ, বাঁধের নিম্নাঞ্চল কিংবা সরকারি খাস জমি ভূমিদস্যুদের কবল থেকে কিছুই রেহাই পাচ্ছে না। স্কেভেটরসহ মাটি বহনকারী ড্রাম ট্রাকের অবাধ চলাচলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো। মাটির ট্রাকগুলোর অবাধ চলাচলে নষ্ট হচ্ছে আবাদি ফসলি জমির উর্বরতা।
উপজেলার পূর্ব সৈয়দপুর, পশ্চিম সৈয়দপুর, আলাকুলিপুর, ব্রিকফিল্ড, শেখেরহাট, বগাচতর, মহানগর, টেরিয়াইল, বহরপুর, ভাটেরখীল, গুপ্তাখালী, গোলাবাড়ীয়া, হাসনাবাদ, গুলিয়াখালী, মান্দারীটোলা, অলিনগর, নতুনপাড়া, বাঁশবাড়ীয়া, আকিলপুর, কাজীপাড়া, আমিরাবাদ এবং মহাদেবপরের বিভিন্ন মৌজার দাগে-দাগে শস্যভাণ্ডারের পরিবর্তে ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে গভীর ডোবা। অনেক জমিতে ৯০ ডিগ্রী মাটি কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে আশ-পাশের ফসলি জমিগুলো ভেঙ্গে চাষাবাদের অনুপযোগীসহ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিবেশীদের সাথে ভূমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা।
মুরাদপুর ইউনিয়নের পেসকারপাড়ার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ভাটেরখীল মৌজায় তার মালিকানাধীন ৮শতক ফসলি জমি নিদা গাজী ভূঁইয়া বাড়ির মো. নুরুল হুদার সাথে বিক্রয়ে ১০,০০০ টাকায় বায়না করেন। নির্দিষ্ট মেয়াদ অতিক্রম করলেও রেজিস্ট্রি গ্রহণ কিংবা তাকে না জানিয়ে মাটি খেকোদের কু-প্ররোচনায় প্রতারণামূলক ভাবে প্রায় ২লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি করে বায়নাকৃত ভূমি ক্রয়ে তাল-বাহানা করছে নুরুল হুদা। টপসয়েল বিক্রিতে ফসলি ভূমিটি ডোবায় পরিণত হলে মারাত্মক হতাশায় রয়েছেন আনোয়ার হোসেন।
মাটি ব্যবসায়ীদের দাবি তারা অনাবাদী জমির মাটি ক্রয় করছে। তাছাড়া নগদ টাকার একান্ত আবশ্যক, কৃষিতে লোকসান, ভৌগোলিক দুরত্ব, ভূমির রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতা এবং অন্যত্র অবস্থান করার কারণে ভূমির মালিকরা মাটি বিক্রির জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
পশ্চিম সৈয়দপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, এক সময় কাজের অবসরে বিলের ধারে ঘুরতে গেলে ফসলের মনোরম দৃশ্য দেখে মনটা ভরে উঠত। ফসলের মাঠে আজ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মৌজার দাগে দাগে ডোবার দৃশ্য। এভাবে চলতে থাকলে স্কেভেটর, ড্রামট্রাক, কিংবা মাটি ব্যবসায়ীরা সাময়িক লাভবান হলেও ভবিষ্যতে ফসলি জমি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় জানান, জমি থেকে মাটি কাটার ঘটনাটি আমি অবগত আছি। জমি থেকে মাটি কাটার কোন বৈধতা নেই। শীঘ্রই আইন অমান্য করে মাটি যারা কাটছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Developed By Muktodhara Technology Limited