image

আজ, শুক্রবার, ৭ মে ২০২১ ইং

বান্দরবানে পাহাড়ি ছনের ঘর বিলুপ্তির পথে

এম.বশিরুল আলম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি    |    ২০:৫৬, এপ্রিল ২৮, ২০২১

image

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের চিরচেনা ছন কিংবা ছাউনির ঘর। দিনদিন আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন পাহাড়ে ছন ও ছনের তৈরি ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। 

লামা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, খুব বেশি দিন হয়নি যেখানে প্রতিটি গ্রামে দু’চারটি ছনের তৈরি ঘর চোখে পড়তো। বর্তমানে কয়েকটি ইউনিয়ন মিলেও এই ধরনের ঘর চোখে পড়ে না। এদিকে টিনের অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কারণ, দেশে উৎপাদিক অধিকাংশ টিন পরিবেশবান্ধব নয়। তবে লামা উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি উপজাতি পাড়ায় এখনো রয়েছে কয়েকটি ছনের ঘর।

ছন কেটে ধানের মতো মেলে দিয়ে কিছুদিন শুকানোর পর তা বিক্রির জন্য ভার বেঁধে হাটে নিয়ে যাওয়া হতো। এক সময় এলাকাভিত্তিক ছনখোলা হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম্য এলাকার ছন। আধুনিক সভ্যতায় মানুষ এখন পাকা-আধাপাকা বাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করছে টিনকে। ফলে গ্রাম থেকে ছনের ব্যবহার ক্রমশ বিলুপ্তির পথে। 

আগের মতো ছন পাওয়া যায় না বলে জানান লামা পেীরসভা এলাকার চাম্পাতলী মার্মা পাড়ার বাসিন্ধা মংফোহ্লা মার্মা। তিনি বলেন, এক সময় প্রতিবছর ঘরে পুরনো ছনের ছাউনি সরিয়ে় নতুন করে ছন ব্যবহার করা হত। এ সময়ে় মানুষ ব্যস্ত থাকে ঘর ছাউনিতে। অনেকে অর্থাভাবে টিনের পরিবর্তে ছনকে ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করত। তা ছাড়া ছন না পেয়ে ছনের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলার চাষিরাও বিমুখ হচ্ছে দিন দিন। জানা গেছে, ছনের ছাউনির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু কারিগর ছিলেন।

মংব্রাচিং মার্মা, ক্যসিং মার্মা, ইরন মল্লিক, সজিব দাস, মো.হারুন, ছালে আহাম্মদসহ অনেকে জানান, ১০-১৫ বছর আগেও তাদের দৈনিক মজুরি ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। ছন খোলাগুলোতে ধানেরমত কাস্তে দিয়ে মুঠি মুঠি কেঁটে সাড়ি করে বিছিয়ে  শোকানোর জন্য রাখা হত। এরপর আগার পাতলা অংশ কেটে সাজিয়ে ছনের ভার করে বাজারে নিয়ে বিক্রী করে সংসার চালাত।এখন ছন বিলুপ্তির কারনে  সাধারণ গ্রামের মানুষ ঘর তৈরিতে ছাউনি হিসেবে আগের মতো ছনের ব্যবহার তেমন করতে পারছে না। গ্রাম কিংবা শহরে শেীখিনতায় অনেকে এই ছনের ঘর তৈরী করছে। তাছাড়া পানের বড়গেও এই ছন ব্যবহার হচ্ছে।

অনেকে জানান, দুই-তিন বছর পরপর ছন পরিবর্তন করতে হয় বলে এটাকে অনেকে ঝামেলা মনে করেন। সেই থেকে ছনের ছাউনি ঘরের সংখ্যা কমতে শুরু করে। বর্তমানে এই ঘর খুব একটা চোখে পড়ে না। ছনের ছাউনির ঘরের কথা নবীনদের মন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার আবহমান ঐতিহ্যের ছনের ঘর রূপকথার গল্প কথনের মতো হয়ে যাবে।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১৫:০১, মে ৫, ২০২১

কুতুবদিয়ায় বোরো ধানের শীষে দুলছে কৃষকের হাসি : বাম্পার ফলনে চোখে মুখে সোনালী ঝিলিক


Los Angeles

১২:২৫, মে ৫, ২০২১

বাঁশখালীতে বাম্পার ফলন : বিষমুক্ত কাকরোল স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে শহরেও


Los Angeles

০০:০২, এপ্রিল ২৯, ২০২১

ঐতিহাসিক ভয়াল ২৯ এপ্রিল : একত্রিশ বছরেও কাটেনি শঙ্কা আর নির্ঘুম রাত্রি’র দুর্ভোগ


Los Angeles

২০:৫৬, এপ্রিল ২৮, ২০২১

বান্দরবানে পাহাড়ি ছনের ঘর বিলুপ্তির পথে


Los Angeles

১৯:৪৪, এপ্রিল ২৮, ২০২১

বাঁশখালীর পুইঁছড়িবাসীর দু:খ স্লুইসগেইট : নদীর জলে চোখের জলে একাকার জীবনধারা


image
image
image

আরও পড়ুন

Los Angeles

২২:৫৭, মে ৬, ২০২১

টেকনাফে বিজিবি-মাদক কারবারি গুলাগুলি : ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক-২ 


Los Angeles

২২:২৭, মে ৬, ২০২১

মিরসরাইয়ে ৩০ কেজি মহিষের মাংস জব্ধ