শিরোনাম
শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী প্রতিনিধি | ১২:২৫, মে ৫, ২০২১
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কাকরোলের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাঁশখালীতে যে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয়েছে কাকরোল। বাঁশখালীতে করলা চাষে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় খুশি উপজেলার নাপোড়া, শীলকূপ, সাধনপুর, কালীপুর, চাম্বল, পুইছড়ি, জঙ্গল জলদী, প্রেমবাজার সহ ছয়টি ইউনিয়নের বেশকয়েকটি গ্রামের দুই হাজারের বেশি কৃষক। এসব করলা বাঁশখালীর স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিঠানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরেও সরবরাহ করা হয়। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এসব করলা চাষিরা।
প্রতিদিন বাঁশখালী থেকে পাইকারী দরে বিক্রেতারা বাঁশখালীর বিভিন্ন বাজার এবং ফসলী ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছে।
প্রচুর পরিমাণ কাকরোল চাষ হওয়ায় বাঁশখালীর চাষীরা ভীষণ আশ্বান্বিত হলেও প্রথম পর্যায়ে যে হারে দাম পাওয়া যেত বর্তমানে করোনাকালীন লকডাউনে সে হারে দাম পাচ্ছে না জানান চাষীরা। বর্তমানে বাজারে খুচরা ৬০-৭০ টাকা হারে কেজি বেচা বিক্রি হলেও পাইকারী বাজারে এই দাম ৩০-৪০ টাকা কেজী এমনকি আরো কম বলে জানান বিক্রেতারা।
প্রচুর পরিমাণ সবজি উৎপাদন করেও আশানুরূপ দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বাঁশখালীর নাপোড়া, শীলকূপ, সাধনপুর, কালীপুর, চাম্বল, টাইমবাজার, পুইছড়ি প্রেমবাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতারা। তবে বাঁশখালীতে উৎপাদিত সবজি চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। কারণ এখানকার সবজি কোন ধরনের রাসায়নিক বিষ মিশ্রিত না হওয়ায় ক্রেতারা সহজেই এই সবজির প্রতি সহজে আকৃষ্ট থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারন পাইকারী ব্যবসায়ীরা বাঁশখালী এসে পাইকারী দামে ক্রয় করে ট্রাকে ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান চাষীরা।
বাঁশখালীর চাম্বল বাজার হাইদরি মুড়া এলাকার কাকরোল চাষী নজরুল, শিলকুপের মোজাম্মেল ও হারুন, মু. রফিক বলেন, পাইকারী ক্রেতারা কেজি হিসেবে না নিয়ে প্রতি ভার হিসেবে কিনে থাকেন। ৭ শ টাকা থেকে শুরু করে হাজার ১২শ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। এ বছর চলতি মৌসুমে আশানুরুপ কাকরল উৎপাদন হয়েছে তবে কালবৈশাখীর প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি না হলে সবজি আরো বেশী উৎপাদন হবে। যা আমরা বাঁশখালীর সাধারন চাষীদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হতে সাহায্য করবে। এই চলতি মৌসুমে কাকারোল ছাড়াও বেগুন, ঢেঁড়শ, শশা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা, বরবটি, তীত করলা সহ লিচু, আম, জাম, কাঠাঁলের বর্তমানে বাজারে চাহিদা অনুসারে পাওয়া যাচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু ছালেক প্রতিবেদককে বলেন, 'এ বছর বাঁশখালীতে প্রায় সাড়ে ১১শ হেক্টর জমিতে কাকরোল চাষ হয়েছে, পাশাপাশি সকল ধরনের শাক সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের ব্যাপক হারে উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে এবার কাকরোল, বেগুন চাষ করে চাষীরা সফল হয়েছে। কাঁকরোল এ অঞ্চলের অন্যতম একটি মৌসুমী সবজি। জমির উর্বরতা, কৃষি সহায়তা ও কৃষিবিষয়ক পরামর্শ নিয়ে চাষিরা করলা চাষে সফল হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় ফলন একটু কম হলেও স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম শহরের কালা মিয়া বাজার, চাকতাই সহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক বোঝাই করে বাঁশখালীর বিষমুক্ত করলা কদর পাচ্ছে।'
Developed By Muktodhara Technology Limited