শিরোনাম
বোয়ালখালী প্রতিনিধি | ১১:১৯, মে ২২, ২০২১
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। প্রতিদিনই বাড়ছে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা । উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ায় স্যালাইন ও জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকরা।
শনিবার ( ২২) মে সকালে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়- ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাইরে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি আছে। নির্ধারিত বেডের পাশে মেঝেতে শয্যা বিছিয়ে রোগীরা অবস্হান নিয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,বোয়ালখালীতে গত এক সপ্তাহে ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে।তীব্র ডায়রিয়া ,পেট ব্যথা,বমি নিয়ে
দৈনিক ৩০ থেকে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে ।গত সপ্তাহের শনিবার ৭৯ জন,রবিবার ৮৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত ।গত ৩ থেকে ৪ দিনে শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।অন্যান্য রোগীর সাথে ডায়রিয়া রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।তারপরও রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। হঠাৎ করে গরম বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি হয়েছে বলে মনে করছেন বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তাছাড়া বোয়ালখালীতে তীব্র ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দেয়ায় যত্রতত্র স্থান থেকে পানি পান করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সুইপার স্বল্পতায় কারণে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ চারদিকে। হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নার্স বলেন, বেশিরভাগ রোগী বমি পায়খানা বেডের পাশেই করছে। দোষ কাকে দেবেন? আমরা চেষ্টা করছি সেবা দিতে, একজন সুইপার আর কত পারে পরিষ্কার করতে?
অন্যদিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ - মিলছে না স্যালাইন বা প্রয়োজনীয় ঔষধ। কথা হয় সারোয়াতলী থেকে পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হওয়া কামাল হোসেন (৩৬) এর সাথে। তিনি বলেন, সেবা পাচ্ছি মোটামুটি। স্যালাইন দিয়েছে। রোগী বেশি, তারাও যাবে কোথায়? তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারটি আরও কঠোরভাবে দেখা জরুরি। চরণদ্বীপ পাঠানপাড়া থেকে ভর্তি হওয়া ঝিনুক আকতার (৪০) জানান, ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছি। সিট নাই তাই মেঝেতে বেঁচে থাকার যুদ্ধ করছি। এখনও ডাক্তার দেখেনি। নার্সরা দেখেছে। স্যালাইন দিয়েছে।
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জিল্লুর রহমান বলেন,প্রতি বছর ১০০০ এমএলের ৪০০০ পিচ করে স্যালাইন বরাদ্দ দেওয়া হয়।সেগুলো দিয়ে কোন মতে সামাল দেওয়া হয়।কিন্তু এবার সময় মত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এলাকায় সুপেয় পানির সংকট ও প্রচন্ড তাপদাহের কারণে
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে একটু সমস্যা হচ্ছে।আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।আশা করি সমাধান হবে।
Developed By Muktodhara Technology Limited