শিরোনাম
শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী প্রতিনিধি | ১১:৪৫, জুন ৩, ২০২১
ভালো লাগা আর ভালোবাসা থেকে একসাথে ঘর করার স্বপ্ন সাতসমুদ্র তের নদী পাড়ি দেওয়ার মতো দূরত্বকেও হার মানিয়ে দেয়। বাংলাদেশি তরুণীর সঙ্গে তুর্কির তরুণের মধ্যে একে অপরকে ভালো লাগা থেকে সম্পর্ক গড়ে উঠে। দু'জনের পরিবারের মা-বাবার সম্মতিতে তাঁদের ভালো লাগার সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীতে গড়াতে বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তুর্কি তরুণের পরিবারের কয়েক জন সদস্যদের উপস্থিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফাতিহ ম্যারেজ অফিসে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
কনে তেহেসিন সামিরা দেলোয়ার বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল মোশাররফ আলী সিকদার বাড়ীর অধ্যাপক মরহুম দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। আর বর উনাল আরাস তুরুস্কের ইস্তাম্বুলের মেহেতা এর পুত্র।
তেহেসিন সামিরা জানিয়েছেন, 'আমি ও আমার স্বামী উনাল আরাস আমরা একই সাথে বুশান, দক্ষিণ কোরিয়ার পুকিয়ং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করি।আমি দক্ষিণ কোরিয়ার পুকিয়ং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগে স্কলারশিপ বৃত্তি অর্জন করেছি। এ খানেই আমাদের দু'জনের সাথে পরিচয় হয়। পরস্পরকে জানাজানি হয়। আমরা দু'জন পরস্পরকে ভালোবাসি। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমরা দুজনই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের উভয়ের পরিবার কথাটি জানতে পারে। আমার পরিবার উনাল আরাসের পারিবারিক অবস্থা খোঁজ খবর নিয়ে আরাসের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হন। আরাসের পরিবারও তাতে রাজি হয়। পরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফাতিহ ম্যারেজ অফিসে আমাদের বিবাহ্ সম্পন্ন হয়। আমি এখানে পড়াশুনা করছি। আমি মোবাইল ট্রান্সমিশন সিস্টেম ল্যাবরেটরিতে গবেষণা সহকারী হিসাবে কাজ করি।'
বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তেহেসিন সামিরা মেধার সাথে গড়ে তুলেন তাঁর ক্যারিয়ার। তিনি Fset debate Club এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন এফসেট রিসার্চ ক্লাবের প্রাক্তন সদস্য, দৃষ্টি চট্টগ্রাম ও শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের সদস্য, ঢাকা লিভ এর প্লেনিং অফিসার ছিলেন। তিনি বিতর্ক করেন, আবৃত্তি করেন। থিয়েটার নিয়ে দেশের বাইরে দিল্লী, গুজরাট, কলকাতা, নাগপুর যান। অভিনয়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০০৭ এর বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। অভিনয় ও আবৃত্তিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০০৬ এর বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হন। ২০০৭ সালে তিনি মঞ্চকুঁড়ি পদক পান। লন্ডন-মুর্ভাস ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পোকেন ইংলিশ 'ইয়াং লার্নাস ইংলিশ' এর উপর ক্যাটাগরিতে সনদপ্রাপ্ত হয় তিনি। জার্মানে CMM subject এ মাস্টার্স করতে ব্রেমন ইউনিভার্সিটি থেকে স্কলারশীপ নেন। তেহেসিন সামিরা স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশে একদিন গবেষণা কেন্দ্রের খাত তৈরী হবে। তিনি এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় বুকান, পুকিয়ং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি, পিএইচডি করছে। তার গবেষণা অঞ্চলটি আরএফ সার্কিট ডিজাইন। দক্ষিণ কোরিয়ায় সিস্টেমে গবেষণা সহায়ক হিসাবে চিপ ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন তিনি।
তুর্কী তরুণ উনাল আরাস পামুক্কালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেন, তার পরে তিনি ওয়ার্মিয়া এবং মাজুরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরাসমাসের পূর্ণ বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে পড়াশোনা করেন।পোল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করার পরে মেভালানার সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে পুকিয়ং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন করেন এবং তারপরে গত বছর তিনি ৫ তম তুর্কি বৃত্তির মাধ্যমে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনি এখন ৩ বছর ধরে বিক্রয় ও ক্রয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে এয়ারলাইন সংস্থায় কাজ করছে।
তেহেসিন সামিরার মা কাউচারের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছে, 'দক্ষিণ কোরিয়ার পুকিয়ং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার মেয়ে পড়াশুনা কালে ওখানে অধ্যায়নরত উনাল আরাসের সাথে পরিচয় হয়। মাত্র চার মাসের পরিচয়ে তারা পরস্পরকে ভালোবাসে। তারা দু'জনই বিয়ে করতে রাজি হয়। বিষয়টি আমাকে জানালে আমরা উভয় পরিবারের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে এ বিয়ের আয়োজন করি। পরে চলতি বছরের ১ জুন তুর্কীর ইস্তাম্বুলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় তার স্বামী আরাস সহ তার বড় বোন, বড় বোনের জামাই, বাংলাদেশ এম্ব্যাসির একজন কর্মকর্তা সহ তাদের বন্ধুদের উপস্থিতিতে ইস্তাম্বুলে ফাতিহ ম্যারেজ অফিসে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। চলমান বৈশ্বিক করোনার কারণে আমরা পারিবারিকভাবে বড় কোন আয়োজন করতে পারিনি। তাদের সাথে কথা হয়েছে, আগামী বছর আমরা স্বপরিবারে তুর্কির ইস্তাম্বুলে যাবো। সেখানে সবাইকে নিয়ে পারিবারিক একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।'
তেহেসিন সামিরা তারা ১ ভাই, ২ বোন। তেহেসিন পরিবারের সবার ছোট। মেঝ বোনের বিয়ে হয়। তার বড় ভাই ইউকে সান্দরল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
Developed By Muktodhara Technology Limited