শিরোনাম
চন্দনাইশ প্রতিনিধি | ১৭:৩০, জুন ২৬, ২০২১
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ, চন্দনাইশ ও দোহাজারী পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার (২৫ জুন) দুপুরে চন্দনাইশ উপজেলা, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ, চন্দনাইশ ও দোহাজারী পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে গাছবাড়িয়া পুরাতন কলেজ গেইট চত্বরে পদ বঞ্চিতরা বিক্ষোভ মিছিল করে সড়ক অবরোধ করে রাখে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে পৌনে ৭টা পর্যন্ত এই সড়ক অবরোধ চলাকালে পদবঞ্চিতদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাহিন চৌধুরী, জাহিদুর রহমান চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন মাহিন, ইয়াছিন আরাফাত, জাহিদুল ইসলাম আবিদ, সোহেল আরমান, সম্রাট চৌধুরী, নাজমুল ইসলাম রুমি, সাইফুল ইসলাম বাবু, মাসুদ রানা, মিজানুর রহমান, মো. আজম খান, মোরশেদুল আলম, মো, জিসান, রাশেদুল ইসলাম, মো. ইউনুচ, সিহাব, দিদার, শওকতসহ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা দক্ষিণ জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক ঘোষিত ছাত্রলীগের ৪টি কমিটিতে ত্যাগী, তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের স্থান না হওয়ায় ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুড়ি দিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে প্রতিবাদ জানান। এসময় পদ বঞ্চিতদের পক্ষ থেকে দোহাজারী পৌরসভা সদর, দক্ষিণ হাশিমপুর বুলার তালুক, বাতামতল, গাছবাড়িয়া পুরাতন কলেজ গেইট চত্বরে পৃথক পৃথক সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরা।
শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ চলাকালে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী বাস রিলাক্স (চট্টমেট্রো- ১১- ১২৬০) গাড়ীর কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। দীর্ঘ ৩ ঘন্টা ধরে সড়ক অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে উভয় দিকে ২ কিলোমিটারের অধিক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী সাধারণের দূর্ভোগের শেষ ছিল না। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম, এএসপি সার্কেল (আনোয়ারা) হুমায়ুন কবির, থানা অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন সরকার, ডিবি পুলিশসহ প্রশাসনের সাথে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের আলোচনার মাধ্যমে পৌনে ৭টায় সড়ক অবরোধ তুলে নেয়া হয়। অবরোধ চলাকালে দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক তৌহিদুল আলম, যুগ্ম আহবায়ক মুছা তছলিম, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান আরজু, জেলা ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ, ইমতিয়াজ হোসেন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলন করে ৪টি কমিটি থেকে ১৬ জন নেতাকর্মী পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সেই সাথে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দক্ষিণ জেলা কর্তৃক ঘোষিত চন্দনাইশে ছাত্রলীগের ৪টি কমিটি বাতিল না করলে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
পদত্যাগীরা হলেন উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদুল হোসেন, রিয়াদুল সাঈদ, রিদুয়ান সাঈদ ইমন, আলমগীর ইসলাম, জোবায়ের ইসলাম, মিজানুর রহমান, আল মাহামুদ জুনায়েদ, ফরহাদ ফয়েজ রাকীব, গাছবাড়িয়া কলেজ ছাত্রলীগের মিনহাজুল ইসলাম, জাবেদ ইকবাল কাজেমী, আবিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম সিকদার বাবু, চন্দনাইশ পৌরসভা ছাত্রলীগের নাজমুল ইসলাম রুমি, গোফরানুল হাসিব, নাঈম উদ্দিন, মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী শুভ।
সড়ক অবরোধের ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের বলেছেন, "বিষয়টি তিনি জেনে পুলিশ ফোর্স পাঠান। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এএসপি সার্কেল আনোয়ারাসহ অবরোধকারীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ তুলে নিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়া হয়।"
এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ চৌধুরী জুনু বলেন, "চন্দনাইশে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিষয়ে অভিভাবক সংগঠন হিসেবে উপজেলা আ.লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ কোন ধরণের আলোচনা করেনি, মতামত নেয়নি। আমাদের সাথে আলোচনা করলে খুশি হতাম। উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নয়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করেছে। ছাত্রজীবনে স্কুল-কলেজ ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগে দায়িত্ব পালণ করেছি। এছাড়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেছি। দুঃসময়ে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে আমারও ভূমিকা ছিলো। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে নুন্যতম সৌজন্যতাবোধটুকু পর্যন্ত তারা দেখায়নি।"
এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ.লীগ সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, "চন্দনাইশে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ.লীগ নেতৃবৃন্দ এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতও নেয়নি দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাখার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত করে অবরোধ প্রত্যাহার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। সরকারি দলের সমর্থক হিসেবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করলে জনগণের কাছে আ.লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। বিষয়টি আলোচনার টেবিলে যাতে সমাধান হয় সেজন্য সবরকম প্রচেষ্টা চালাবো।"
এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের জানান, "দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর চন্দনাইশে ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নতুন কমিটি গঠন করতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। উপজেলার দায়িত্বশীল সবার মতামত নিতে চেয়েছি। অনেকে গুরুত্ব দিয়েছেন অনেকে দেননি। উপজেলায় দায়িত্বশীল অনেকেই আছেন, একক কারো অনুসারী নিয়ে পকেট কমিটি করিনি। সবার সাথে সমন্বয় করে মাঠের কর্মীদের নিয়েই কমিটি করেছি, কমিটিতে সকল দায়িত্বশীলদেরই অনুসারী আছে। আমাদের সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে আমাদের বিবেক-বিবেচনায় যাদেরকে যোগ্য মনে হয়েছে তাদেরকেই কমিটি রাখা হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত কারো বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কোন কিছু প্রমাণিত হলে তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।"
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম বোরহান উদ্দিন বলেন, "দীর্ঘদিন চন্দনাইশে কোন কমিটি ছিলো না। আমরা নেতৃত্বে আসার পর থেকে তিন বছর চেষ্টা করেছিলাম। কমিটি দেয়ার জন্য। যারা মাঠের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মী তাদেরকে নিয়ে কমিটি উপহার দিয়েছি অনেক বছর পর। আশা করি এই কমিটি ছাত্রলীগের সুনামটাকে ধরে রাখবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার যে অর্জন, সে অর্জনকে তারা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।"
Developed By Muktodhara Technology Limited