শিরোনাম
এস এম শাহেদ হোসাইন ছোটন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি | ১২:১৭, জুলাই ২, ২০২১
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ডের লাল মিয়ার বাপের বাড়ী এলাকায় স্বামী, এক ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে শাহানাজ পারভীন নিলুর সংসার। ব্যক্তিগ়ত পেশায় একজন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে এবং মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে।
সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে খুব পরিশ্রমী এবং প্রত্যয়ী ছিলেন শাহানাজ পারভীন নিলু। স্বামী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে স্বামীর সামান্য উপাজিত অর্থ আর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামান্য বেতন দিয়ে সংসার চালানো যায় না।দারিদ্র্য থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় এ চিন্তায় নিলু যেনো ঠিকমতো ঘুমাতে পারতেন না। একপর্যায়ে নিলুর জমানো টাকা দিয়ে দেশি জাতের একটি বাছুরসহ গাভী কিনে শুরু করেন গাভি পালন। এটাই যেন নিলুর অভাব মোচনের শুরু।
ধীরে ধীরে গরুর খামারটিকে আরো একটু বড় পরিসরে রূপ দিতে বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে গত ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাত্র শুরু করে নিলু। এরপর নিলুকে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি।
শাহানাজ পারভীন নিলু জানান,আমার বিয়ের পর থেকে আমার স্বামী মেরিন একাডেমীতে সামান্য বেতনের চাকুরী করত আর আমি গ্রামের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে সামান্য বেতনের চাকুরী করে সংসার চালানো আর ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করা সম্ভব না।তাই অনেক চিন্তা ভাবনা করে এবং স্বামীর সাথে পরামর্শ করে আমার স্বামী মোহাম্মদ হারুনকে সঙ্গে নিয়ে খামারের উদ্যোগ গ্রহণ করি।
বর্তমানে নিলুর খামারে ৫টি গাভী, ৫ টি বাচুর , ৪টি ষাঁড় এবং এর পাশাপাশি ৪টি ছাগল রয়েছে। যার বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায়১৫ লাখ টাকা। ৬ শতক জায়গায় তার খামারটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানান নিলু।
প্রতিদিন গড়ে খামার থেকে ৪০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। পাইকারি দামে প্রতি লিটার ৭০ টাকা এবং খুচরা দামে প্রতি লিটার ৭৫ টাকায় বিক্রি করেন দুধ।
নিলু আরও জানান, গাভী পালনের পাশাপাশি তার খামারের কিছু দূরে ৪০ শতক জমি খাজনা নিয়ে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করছেন। নিলু জানান, জীবনে হতাশ না হয়ে পরিশ্রম করতে হবে। তাহলে সফলতা ধরা দেবে নিশ্চিত।
নিলুর স্বামী মোহাম্মদ হারুন বলেন, ১ বছর ৫ মাস ধরে আমার স্ত্রী শাহানাজ পারভীন নিলুর সাথে খামারে পরিশ্রম করে বর্তমানে আমরা সুখের মুখ দেখছি। শাহানাজ পারভীন লিলুর দেখাদেখি অনেকে গাভী পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং সংসারের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সেতু ভূষণ দাশ বলেন, নিলুর গাভী পালনের একান্ত উদ্যােগ আসলে প্রশংসনীয়।আমি আমার যে প্রকল্প আছে এবং অনন্যা যে প্রকল্পগুলো আছে সেখান থেকে আমি থাকে আন্তরিক সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করব। লকডাইন শেষ হলে আমি নিজে গিয়ে নিলুর গরুর খামার পরিদর্শন করব।
Developed By Muktodhara Technology Limited