শিরোনাম
মোঃ কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ প্রতিনিধি | ২২:৩৬, জুলাই ৭, ২০২১
মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম ২য় পর্যায়ের আওতায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় ভূমি ও গৃহহীন ৫১টি পরিবারকে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০ জুন (রবিবার) সকালে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের কাছে ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের বশরতনগর মৌজায় ০.৭০ একর জমির ওপর ২৯ টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। শঙ্খ নদীর দক্ষিণ পাড়ে খোদার হাট লাগোয়া এলাকায় বশরত নগর মৌজায় ০.৭০ একর জমির ওপর দুই ভাগে ২৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের এক পাশে ৫ লাইনে ১৯ টি অপর পাশে দুই লাইনে ১০ টি ঘর। সরকারি খাস জমিতে প্রত্যেকটি উপকারভোগীকে ২ শতক জমির ওপর সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সবগুলো ঘর সরকার নির্ধারিত একই নকশায় নির্মাণ করা হয়েছে। ইটের দেয়াল, উপরে রঙিন টিনের চাল। প্রতিটি ঘরে দুইটি শোবার ঘর, রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট, খোলা বারান্দাসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ঘরে একটি করে মিটার সংযোগ এবং সুপেয় পানির জন্য স্থাপণ করা হয়েছে গভীর নলকূপ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ২৯টি ঘরের মধ্যে ২৪টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা করে এবং ৫টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা করে।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ২৯ টি ঘরের মধ্যে ২০টি ঘরেই উপকারভোগীরা উঠেছেন। এসব পরিবারগুলো তাদের পাওয়া ঘর গুছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর পেয়ে অসীম আনন্দে আত্মহারা এসব মানুষ। তারা নিজের ঘরে উঠে নতুন স্বপ্ন দেখতে যাচ্ছে। বেশ কয়েকজন উপকারভোগীর সাথে আলাপকালে তারা এই প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর জন্য দোয়া করেছেন।
১৯ নম্বর ঘরের উপকারভোগী চন্দনাইশ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের গোদারকুল খলিলামুড়া এলাকা থেকে আসা পাখি আক্তার বলেন, ''দিনমজুর স্বামীর স্বল্প উপার্জনে ৩ ছেলে ২ মেয়ে নিয়ে কোনমতে দিনাতিপাত করছিলাম। অভাবের সংসারে কোনদিন চিন্তা করিনি নিজের জমি ও পাকা ঘর হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জমিসহ ঘর দেয়ায় তাঁর জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজে দোয়া করবো।
১৬ নম্বর ঘরের উপকারভোগী হাশিমপুর ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ এলাকা থেকে আসা আব্দুস ছবুর তার কষ্টের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
২নম্বর ঘরের উপকারভোগী বরকল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশা চালক রেজাউল করিম বলেন, স্ত্রী ও ১ছেলে ২মেয়ে নিয়ে বাড়ি ভিটা কিছুই না থাকায় বড় কষ্টে ছিলাম। সরকারের এ ঘর পেয়ে আমি খুব খুশী।
একই এলাকার বয়োবৃদ্ধ আয়েশা খাতুন বরাদ্দ পেয়েছেন ৫ নম্বর ঘরটি। তার পুত্রবধূ নিপা আকতার বলেন, "আমার স্বামী সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করে তা দিয়ে সংসার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। সরকারি ঘর পাওয়ায় প্রতি মাসে ঘর ভাড়ার টাকা যোগাড় করার চিন্তা দূর হলো।
১০ নম্বর ঘরের উপকারভোগী পূর্ব কানাইমাদারী থেকে আসা ফরিদা বেগম জানান, তার স্বামী রেয়াজউদ্দীন মারা যাওয়ার পর থেকে দুঃখ কষ্ট তার নিত্যসঙ্গী। ২ছেলে ১মেয়েকে নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে কোন মতে দিনাতিপাত করেন। নেই এক টুকরো মাটি, নেই নিজের ঘরও। জমিসহ সেমিপাকা ঘর পেয়ে তিনি বেজায় খুশি।
৭ নম্বর ঘরের উপকারভোগী বরকল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড থেকে আসা বাদল শীল পেশায় নরসুন্দর। তাঁর গল্পটাও খুব কষ্টের। তিনি বলেন, যা আয় করতাম তা ভাড়া ঘরের মালিকের হাতেই তুলে দিতো হতো। এখন নিজের একটা ঘর হয়েছে, তাতে আমি খুব খুশি।
১৩ নম্বর ঘরের উপকারভোগী হাশিমপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পূর্ব ছৈয়দাবাদ থেকে আসা বিধবা রুমা আক্তার ৩ মেয়ে ১ ছেলে নিয়ে গত সপ্তাহে উঠেছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে স্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়ায় আমি খুব খুশি।
২৪ নম্বর ঘরের উপকারভোগী চন্দনাইশ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বিধবা নুরনাহার ৩ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করলেও জমিসহ সেমিপাকা ঘর বরাদ্দ পাওয়ায় তিনি দারুন খুশি।
এদিকে চাবি হস্তান্তরের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও ৯টি ঘরের উপকারভোগীরা আশ্রয়ণ প্রকল্পে উঠেনি। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে লালনপালন করা গরু-ছাগল বিক্রি শেষে ঈদের পর থেকে তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করবেন।
Developed By Muktodhara Technology Limited