শিরোনাম
চন্দনাইশ প্রতিনিধি | ২৩:৫৪, জুলাই ১৩, ২০২১
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় ০.৮০ একর যায়গার ওপর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ২২টি গৃহনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২০ জুন (রবিবার) সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বৈলতলী বশরত নগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৯ টি ও দিয়াকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২টি ঘরের চাবি ও জমির দলিল উপকারভোগীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
বৈলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে ২০টি পরিবার ইতিমধ্যে ঘরে উঠে বসবাস করছেন। বাকি ৯টি ঘরের উপকারভোগীরা ঈদ-উল-আযহার পর ঘরে উঠবেন বলে জানা গেছে। ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তরের ২২দিন পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ঘরে উঠতে পারেননি দিয়াকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীরা। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি, লকডাউন, ঈদের ছুটি, শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির বাগড়ার কারনে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ায় উপকারভোগীরা এতোদিন ঘরে উঠতে না পারলেও ঈদ-উল-আযহার পর উপকারভোগীরা ঘরে উঠবেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় একজন রংমিস্ত্রি ঘরে রঙের প্রলেপ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে ১৯টি ঘরের রঙ করা শেষ হয়েছে। বাকি ৩টি ঘরের রঙের কাজ আজকে রাতের মধ্যে শেষ হবে বলে জানান ওই মিস্ত্রি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই প্রান্তে দুইটি গভীর নলকূপ স্থাপণ শেষে পানির ট্যাংক স্থাপনের কাজ করছেন দুইজন পাইপ ফিল্টার মিস্ত্রি।
জানা গেছে, যাদের ভূমি ও ঘর নাই এমন শ্রেণীর মানুষ যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে, কেউ যেন ভূমি ও গৃহহীন না থাকে সেজন্য চন্দনাইশে ভূমি ও গৃহহীন মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার এই ঘর। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের টিআর কর্মসূচির আওতায় দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল মৌজায় ০.৮০ একর জমির ওপর ২২টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১লাখ ৯০ হাজার টাকা। অপরদিকে উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের বশরতনগর মৌজায় ০.৭০ একর জমির ওপর ২৯ টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। শঙ্খ নদীর দক্ষিণ পাড়ে খোদার হাট লাগোয়া এলাকায় বশরত নগর মৌজায় ০.৭০ একর জমির ওপর দুই ভাগে ২৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের এক পাশে ৫ লাইনে ১৯ টি অপর পাশে দুই লাইনে ১০ টি ঘর। সরকারি খাস জমিতে প্রত্যেকটি উপকারভোগীকে ২ শতক জমির ওপর সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সবগুলো ঘর সরকার নির্ধারিত একই নকশায় নির্মাণ করা হয়েছে। ইটের দেয়াল, উপরে রঙিন টিনের চাল। প্রতিটি ঘরে দুইটি শোবার ঘর, রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট,খোলা বারান্দাসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ঘরে একটি করে মিটার সংযোগ এবং সুপেয় পানির জন্য স্থাপণ করা হয়েছে গভীর নলকূপ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ২৯টি ঘরের মধ্যে ২৪টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা করে এবং ৫টি ঘরের প্রতিটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা করে।
এদিকে গত সোমবার (১২ জুলাই) বৈলতলী ও দিয়াকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবদুল জব্বার চৌধুরী।
এসময় তাঁর সাথে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চন্দনাইশের উপসহকারী প্রকৌশলী ফরহাদ উদ্দিন।
পরিদর্শন বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবদুল জব্বার চৌধুরী বলেন, "ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ঘরগুলো উপহার দিয়েছেন, সে ঘরগুলো নির্মাণে কোন প্রকার ত্রুটি আছে কিনা এবং ঘরগুলোতে বসবাসরতদের কোন ধরণের অসুবিধা হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে দেখার জন্য গিয়েছি।"
Developed By Muktodhara Technology Limited