শিরোনাম
মোঃ কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ প্রতিনিধি | ১৯:৫১, আগস্ট ৩, ২০২১
অবশেষে নিজের ঘর না থাকার দুঃখ ঘুচলো চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব গাছবাড়ীয়া এলাকার আবু তালেব মুন্সী বাড়ির মৃত এনু মিয়ার ছেলে শেখ আহমদ (৫৭) ওরফে চেয়ারম্যানের। প্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিয়ে এতোদিন ভাড়া বাসায় বসবাস করলেও চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সরকারি সহায়তায় মাথা গোজার ঠাঁই হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তাঁর জন্য দোয়াও করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর পাওয়ার আনন্দে তার চোখে নেমে আসে আনন্দ অশ্রুর বান।
দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল মৌজায় ০.৮০ একর জমিতে নির্মিত ২২টি ঘরের মধ্যে একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। ঘরের চারিদিকে ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে, উপরে রঙিন টিনের চাল। দুইটি শোবার ঘর ছাড়াও সেই ঘরের সামনে রয়েছে বারান্দা, পেছনে রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সুবিধা। ঘরের ২ শতাংশ জমিও তাঁর নামে লিখে দেওয়া হয়েছে (বন্দোবস্ত)। রবিবার (২০) জানুয়ারি চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঘরের কাগজপত্র ও জমির দলিল তার হাতে তুলে দেন
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী। শনিবার (৩১ জুলাই) স্ত্রী-সন্তানসহ দিয়াকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের নতুন ঘরে উঠেছেন শেখ আহমদ।
সোমবার (২ আগস্ট) বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে তাঁকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ আহমদের স্ত্রী নাজমা বেগম। জমিসহ সেমিপাকা ঘর পাওয়ার আনন্দে তার চোখে নেমে আসে আনন্দ অশ্রুর বান। নতুন পাওয়া ঘর এসিল্যান্ডকে ঘুরে ঘুরে দেখিয়ে বলেন, সেমি পাকা ঘরটি তার খুব পছন্দ হয়েছে। শোবার দুইটি কক্ষ, সঙ্গে রান্নাঘর। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ভালো। বিদ্যুৎ আছে। পানি আছে। পরিবার নিয়ে এখন খুব ভালোভাবে থাকতে পারবেন।
ঘর পেয়ে কেমন লাগছে, জিজ্ঞেস করায় এই প্রতিবেদককে নাজমা বেগম বলেন, "আমার স্বামী শ্বাস কষ্টের রোগী। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদীন ধরে রিক্সা চালাতে পারছেন না। অন্যের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে অর্ধাহার-অনাহারে কোনরকমে দিন পার করেছি। নিজেদের কোন ভিটা-বাড়ি না থাকায় বিদ্যুৎ বিলসহ ১৯ শ' টাকা ঘর ভাড়া যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হতো। স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে, আমরা জমিসহ নতুন সেমিপাকা ঘর পাবো। আমরা ভীষণ খুশি হয়েছি ঘর পেয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করবো।"
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন বলেন, ''প্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা অসুস্থ্য দিনমজুর শেখ আহমদকে সরকারি সহায়তায় মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
'মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না’- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে আশ্রয়হীন পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে যাচ্ছেন। বিনে পয়সায় একসঙ্গে এত ঘর করে দেওয়া সারা বিশ্বে এটি প্রথম এবং একমাত্র ঘটনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে অনন্য একটি নজির স্থাপণ করলেন। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ়তার কারনে এটি সম্ভব হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহতী এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশীদার হতে পেরে গর্ববোধ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহহীনদের একটা মানসম্মত ও টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে আমরা সবসময় তদারকি করেছি।"
প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল দৈনিক অধিকার পত্রিকার ৫ম পাতায় ''প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে আহমদের মানবেতর জীবনযাপন" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবন্ধী তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন চন্দনাইশ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া এলাকার আবু তালেব মুন্সী বাড়ির অসুস্থ্য রিক্সা চালক শেখ আহমদ।
শ্বাস কষ্টের রোগী শেখ আহমদ শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ এক বছর ধরে রিক্সা চালাতে পারছেন না। তার প্রথম মেয়ে শাকী আকতার (২৫), ছেলে মোহাম্মদ ইবরাহীম (১৭), ইসপান (৮) জন্ম থেকে স্যালেরিয়াসীসের এ্যালিপ্যান্ট পিয়াসীস রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে অসুস্থতা বেড়ে মা-বাবার বোঝা হয়ে বড় হচ্ছে। তাদের পা ফুলে অনেক বড় আকৃতি ধারণ করেছে। কালো রংয়ের আবরণে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত পানি সরছে ২টি পা থেকে। পায়ে পানি লাগলে পায়ে পচন ধরে বলে জানালেন তারা। এ রোগের কারণে শেখ আহমদের ৩ সন্তান কোন ধরণের পড়া-লেখা ও কাজ কর্ম করতে পারছে না। তার স্ত্রী নাজমা বেগম অন্যের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে কোন রকমে সংসার চালান। নিজের কোন ভিটা-বাড়ী না থাকায় বিদ্যুৎ বিলসহ ১৯’শ টাকা ভাড়া যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়
তাকে।
Developed By Muktodhara Technology Limited