image

আজ, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং

আবারও ভোট বর্জনের পথেই হাঁটছে বিএনপি

আব্দুল্লাহ আল মামুন    |    ২৩:২৬, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

image

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে চলছে নানা গুঞ্জণ।

আন্দোলন করে ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকাতে না পারা এবং এক বছর পর অর্থাৎ ২০১৫ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর ধরে নেয়া হয়েছিল বিএনপি এবার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয়ে কিছুটা হলেও নমনীয় হবে। তবে একাদশ নির্বাচন যত কাছে আসছে বিএনপি আবারও তাদের নির্দলীয় সরকারের দাবি জোরদার করছে।

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে আপত্তি থাকলেও নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা কেমন হবে সে ব্যাপারে বিএনপির নেতৃত্ব এখনও কোন রুপরেখা দেয়নি। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছেন যথাসময়ে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা দেবেন তারা। 

দলটির সকল পর্যায়ের নেতারা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সরকারকে আর ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দিবে না বলে হুশিয়ারি দিলেও কেউ কেউ আবার বলছেন , নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা ইস্যুতে ন্যূনতম কোনো ফয়সালা না হলে ফের ভোট বর্জনের পথেই হাঁটতে পারে দলটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। দলটির সিনিয়র ও নীতি নির্ধারকরা আগামী নির্বাচন ইস্যুতে বিভিন্ন সভা সমাবেশে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন।

কখনও তাদের বক্তব্যে মনে হয় আগামী নির্বাচনে সরকারকে তারা আর ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দিবে না, কখনও মনে হয়-নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সরকার ছাড় না দিলে ফের ৫ জানুয়ারির মত ভোটের বাইরে থাকবে। সবমিলিয়ে আগামী নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি নিজেও এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেনি।

বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবেও কিছুটা অগোছালো আছে। তাদের আগে নিজেদের ঘর গোছাতে হবে। তারপর আন্দোলন। এর কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তাদেরকে আরো বেশি জনগণের কাছে যেতে হবে এবং জনগণের মন বুঝতে হবে। জনগণের কাছে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। রাষ্ট্র ক্ষমতা শেখ হাসিনা থেকে খালেদা জিয়ার কাছে গেলে জনগণের কি লাভ হবে সে বিষয় গুলো স্পষ্ট করতে হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি কোন দিকে হাটছে এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির একাধিক সিনিয়র ও দায়িত্বশীল নেতারা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচন আর এ দেশে হবে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে সকল দলের অংশগ্রহণ মূলক। এই নির্বাচনে সরকারকে আর ফাকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না। সরকার যদি এবারও বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারও একটি পাতানো নির্বাচন করতে চায় তাহলে এবার তাদের সমুচিন জবাব দেওয়া হবে।

তারা বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে বাদ দিয়ে, বিএনপি কখনো সরকারের নীল নকশায় আর পা দিবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। দেশের মানুষ সরকারের সেই ষড়যন্ত্র আর কোনো ভাবেই মেনে নিবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে জনগণ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হওয়ার পর গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে কয়েক দফা দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিটি বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, বৈঠকে আর যাই হোক বর্তমান সরকারের অধীনে তারা কোনো নির্বাচনে যাবে না। প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তুলবেন। এ জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন সবাইকে। পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য যার যার এলাকায় গণসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ। যেহেতু তিনি এই সরকারের কারাগারে রয়েছেন সেহেতু তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসা দেয়া তাদের দায়িত্ব। আগে তার সুস্থ হওয়া প্রয়োজন। তারপর অবিলম্বে তার মুক্তি দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি  বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে বাক্সে বন্দি করে রেখেছে। আজকে সব রাজনৈদিক দলকে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।  ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। এজন্য সবার আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দরকার।’

দেশ-বিদেশের সবাই বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহনমুলক নির্বাচন দেখতে চায় উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, ‘এজন্য খালেদা জিয়া বা বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নীল নকশা করছে সরকার। কিন্তু এবার সেই নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে না।’ 

তিনি আরও বলেন, বিএনপির দাবি হলো বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকার গঠন,  নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে সামরিক বাহিনী মোতায়েন।

দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়াক ছাড়া এদেশের কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। ‘এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। কারন তাদের অধীনে ভোট দেয় পুলিশ আর তাদের নেতাকর্মীরা। সাধারণ জনগণ ভোট দিতে পারে না। তাই সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।’

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন,  বলেন, ‘১/ ১১ এর মেতা বেঈমানি করে কেউ যদি এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার কথা বলে তাহলে রাজপথে নেমে তাদের প্রতিহত করতে হবে।’ 

বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছেই মন্তব্য করে দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, কিন্তু সরকার কোনোভাবেই সফল হচ্ছে না। তারা ভেবেছিলো খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়ে গেলেই বিএনপির দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ খালেদা জিয়া কারামুক্ত করে নির্বাচনে জয়ী করে তাকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী।

উৎস : ডেইলি বাংলাদেশ.কম



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১৮:০৯, মে ১২, ২০২২

বজ্রপাত হচ্ছে-সাবধান হই


Los Angeles

১২:২৮, অক্টোবর ৭, ২০২১

“কয় জন ভালো নয়, সয় জন ভালো হয়”


Los Angeles

০০:৫৯, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

বাংলাদেশের ফুটবলের কলংকিত দিন ১৯৮২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর !


Los Angeles

১১:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

প্রকৃতিতে নয়, কেবল কাগজের নোটেই আছে ‘জাতীয় পাখি দোয়েল‘


Los Angeles

২২:১২, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১

ফুটবলের মরা গাঙে কি আবার জোয়ার আসবে ?


Los Angeles

২৩:০৮, আগস্ট ১৫, ২০২১

শাসক নয় বঙ্গবন্ধু আপাদমস্তক সেবক ছিলেন


Los Angeles

১৮:৫৭, আগস্ট ১৩, ২০২১

আড্ডা যেন এক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়


Los Angeles

০০:০৪, আগস্ট ৮, ২০২১

বাইরে মুক্তির কল্লোল ও বন্দী একটি পরিবার


image
image