image

আজ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬ ইং

নবাবজাদা

সোহেল মাহমুদ    |    ১২:৩০, মার্চ ১৮, ২০২০

image

নবাবজাদা খুব বাজে কোন শব্দ নয়। কিন্তু, তাতে তাচ্ছিল্য আছে। যারা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন, তাদের মুখে এসব মানায় না। বিশেষ করে, সে শব্দ যদি কোন গোষ্ঠীকে খাটো করতে বলা হয়।

আওয়ামীলীগ সরকারের অনেক মন্ত্রী এমপি জনসমক্ষে বেফাঁস কথা বলেন। জনগণ ব্যবস্থাপনা কঠিন কাজ। সেখানে আইন, রীতির চেয়ে নিজের প্রবৃত্তিটাকে ধারালো রাখা লাগে বেশি। মন্ত্রী এমপিদের বেফাঁস হওয়ার কারণ একাধিক। কথা বলতে পারার শিক্ষার অভাব। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি আছে। কিন্তু, জনসমক্ষে কথা বলার কৌশল জানা নেই তাদের। অথবা, এই নেতারা সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করেন। আর, সে অবস্থা তৈরি হয় যখন নেতাদের কোথাও জবাবদিহি করার দরকার হয় না। জনগণের কাছেও না। অস্বীকার করার জো নেই যে, দেশে কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই। বরং, সবকিছুতে চলছে নবাবজাদা আচরণ। ব্যাংকিং খাত বলেন, সরকারী অফিস আদালত, বা অন্য যে কোথাও।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসীদের নবাবজাদা বলেছেন। আমার কাছে খুব আপত্তিকর মনে হয়েছে এ বলা। মানুষটাকে আমার কাছে বিভ্রান্ত মনে হয়। এইজন্য যে, তিনি কোথায় কি কথা বলতে হয় জানেন না। কথা বলতে না জানলে চুপ থাকা ভালো। রাজনীতি করতে গেলে মনের কথা বলে দিতে নেই। অনেক কথা বলতে নেই।

বাংলাদেশে রাজনীতির যে পরিস্থিতি, তাতে অবশ্য আর নীতির জ্ঞান দিয়ে লাভ নেই। এখন যে নীতিতে দেশ চলছে, তাতে হয়তো অনেক মানুষের শক্তি বাড়ছে। কেনার শক্তি, বলার শক্তি, দাবিয়ে রাখার শক্তি। কিন্তু, সমাজ রাষ্ট্রতো দুর্বল হচ্ছে। কোথাও জবাবদিহিতা আছে বলে বোঝা যায় না। কোন কিছুতে ধারাবাহিতা নেই। অনুশীলন নেই। একারণে, যে কোন বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস খুব টলটলা। সরকারের কাজ কারবারে মানুষের আস্থা কম। সরকারের সাথে এ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় অংগ জনগণের দুরত্ব অনেক। প্রতিদিন বাড়ছে আস্থার সংকট। এ অবস্থায় সরকার কোন একটা কাজ ভালোর জন্য করলেও, সেটা নিয়ে জনগণের মধ্যে একটা বিশ্বাসহীনতা কাজ করে। নবাবজাদা শব্দের উৎপত্তি সেই আস্থাহীনতার সংস্কৃতি থেকে।

এরপরও বলি, নবাবজাদা নিয়ে মাঠ গরম করার কিছু নেই। লাভও নেই। এক একটা ইস্যুতে মাঠ গরম করে ক'দিন অন্যের বিরক্তির কারণ হওয়া ছাড়া আমি এতে আর কোন লাভ দেখি না। এই প্রবাসে বসেও দেখি মানুষের চরম বিভক্তি। রাজনীতি নিয়ে। সবার মাথায় খালেদা-হাসিনা। আওয়ামী লীগ এন্টি আওয়ামী লীগে বিভক্ত জাতির জন্য সুখকর নিকট ভবিষ্যৎ দেখি না। দেশের যে কোন ইস্যুতে প্রবাসেও চরম লাঠালাঠি। প্রবল উত্তাপ আলোচনায়। আগে, রাজনীতি ভুলে এক হোন। শক্তিতে পরিণত হোন। কথা বলতে পারার, যুক্তি দেখানোর ক্ষমতা অর্জন করুন।

প্রবাসীরা দেশের সব খবর রাখেন। সব ধরণের খবর। কথায় কথায় অনেকেই বলেন, তারা বিদেশী মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের উপকার করছেন। প্রবাস থেকে কেউ একলাখ টাকা পাঠালে সরকার তাকে আরো দুই হাজার টাকার প্রণোদনা দেয়। এতে দৃশ্যত সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তাহলে লাভটা হচ্ছে কোথায়? এ খবর বেশিরভাগ প্রবাসী জানেন না। জানতে চান না।

অনেককে দেখলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসীদের বিপক্ষে কথা বলে চলেছেন। ইতালী থেকে ঢাকায় ফেরা একদল প্রবাসীর আচরণ নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ। আরেকদল প্রবাসীদের পক্ষে সরকারের পিণ্ডি চটকাচ্ছেন। দুপক্ষেই ব্যাপক বাক্যবান চলেছে। কোথাও কোন যুক্তি নেই। একটা সময়ে একটা পরিস্থিতিতে একজন মানুষের আচরণ, কোনভাবেই তার গোষ্ঠীর আচরণ যে নয়, সেটা মাঠ গরমকারীরাও জানেন। এরপরও বলা। মার্কেট পাওয়ার চেষ্টা। বাহবা কুড়ানো।

লেখক : উপদেষ্টা সম্পাদক, সিটিজি সংবাদ.কম



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১৮:০৯, মে ১২, ২০২২

বজ্রপাত হচ্ছে-সাবধান হই


Los Angeles

১২:২৮, অক্টোবর ৭, ২০২১

“কয় জন ভালো নয়, সয় জন ভালো হয়”


Los Angeles

০০:৫৯, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

বাংলাদেশের ফুটবলের কলংকিত দিন ১৯৮২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর !


Los Angeles

১১:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

প্রকৃতিতে নয়, কেবল কাগজের নোটেই আছে ‘জাতীয় পাখি দোয়েল‘


Los Angeles

২২:১২, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১

ফুটবলের মরা গাঙে কি আবার জোয়ার আসবে ?


Los Angeles

২৩:০৮, আগস্ট ১৫, ২০২১

শাসক নয় বঙ্গবন্ধু আপাদমস্তক সেবক ছিলেন


Los Angeles

১৮:৫৭, আগস্ট ১৩, ২০২১

আড্ডা যেন এক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়


Los Angeles

০০:০৪, আগস্ট ৮, ২০২১

বাইরে মুক্তির কল্লোল ও বন্দী একটি পরিবার


image
image