শিরোনাম
লায়ন হাসান আকবর | ০০:০৯, জুন ২২, ২০২০
শ্বাস নিতে কষ্টে পড়া চট্টগ্রামের লাখো মানুষের দুর্গতি খুব কাছ থেকে দেখার দুর্ভাগ্য হচ্ছে আমাদের। অক্সিজেনের অভাবে অসংখ্য মানুষ কষ্টে পার করছেন দুঃসময়। ভয়াল এই করোনাকালে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মেট্রোপলিটনের পক্ষ থেকে নানাভাবে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন আমার প্রিয় এই ক্লাবের মানবিক সদস্যরা।
করোনার অভিঘাতে কষ্টে পড়া খেটে খাওয়া মানুষদের খাবার পৌঁছে দেয়া, বিভিন্ন দুঃস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে চালু করা ৩০ বেডের লায়ন করোনা সাপোর্ট সেন্টারের জন্য টাকা প্রদান, গাউসিয়া কমিটিকে দাফন কাফন পরিচালনার জন্য আর্থিক অনুদানসহ নানাভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চলছে।
কিন্তু অক্সিজেন সংকটে ভোগা চট্টগ্রামের মানুষদের কষ্ট লাঘবে আমাদের কোন ভূমিকা ছিলনা। ব্যাপারটি কদিন ধরে মনের ভিতর খচ খচ করছিল। ক্লাবের কয়েকজন সদস্যকে বিষয়টি বলতেই তারা মাঠে নামার পরামর্শ দিলেন। আবারো হাত বাড়ানোর আহ্বান জানালাম আমার প্রিয় সদস্যদের প্রতি। তাদের উজাড় করা ভালোবাসায় আবারো বেশ বড় একটি ফান্ড গঠিত হলো। এই টাকা দিয়ে এক লাখ টাকারও বেশি দামের পাঁচটি কমপ্লিট অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং তিনটি ফ্লো মিটার দেয়া হলো ‘অক্সিজেন ফর লাইফ বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনকে।
ডাক্তার মহিউদ্দিন মাসুমের নেতৃত্বে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠন ইতোমধ্যে নগরীতে অক্সিজেনের কষ্টে থাকা বহু মানুষকে রাত বিরাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার যোগান দিয়ে ভালোবাসা কুড়িয়েছে। আমরা তাদের মাধ্যমেই নগরীর অক্সিজেন সংকটে থাকা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর কিছুটা চেষ্টা করলাম আজ। মাননীয় গভর্নর লায়ন কামরুন মালেক অক্সিজেন ফর লাইফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার মহিউদ্দীন মাসুমের হাতে সিলিন্ডার এবং ফ্লো মিটার তুলে দিলেন। আজ রাত থেকেই এসব সিলিন্ডার নগরীর কোথাও না কোথাও কষ্টে পড়া মানুষগুলোর কাজে লাগবে। আর কিছু না হোক পুকুরে ডুবে যাচ্ছে কিংবা বালিশ চাপা দেয়ার কষ্টকর অনুভুতিতে এক একটি শ্বাস নিচ্ছেন এমন একজন মানুষকে হলেও অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া কিংবা হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের ভালোবাসা এবং মমতায় মোড়ানো এসব সিলিন্ডার কিছু মানুষের একটুখানি কষ্ট হয়তো কমাতে সহায়তা করবে। বুকের ভিতরে কি যে শান্তি লাগছে!!!!
দৈনিক আজাদী’র চীফ রিপোর্টার হাসান আকবর’র ফেবু স্ট্যাটাস
Developed By Muktodhara Technology Limited