শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:১৬, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯
আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন রোধে মৌলিক নাটকের ভূমিকা অপরিসীম। আকাশ সংস্কৃতির হিংস্র থাবার মধ্যেও আমাদের মৌলিক সংস্কৃতি নাট্যদলগুলো যে ধরে রেখেছে এবং চর্চা করছে সেজন্য তারা অবশ্যই সমাজের, রাষ্ট্রের ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকার রাখে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ এমপি।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে তীর্যক নাট্যদলের ৫দিন ব্যাপী নাট্যমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে বাঙালী সংস্কৃতি লালন করার ক্ষেত্রে এবং আমাদের মৌলিক সংস্কৃতি লালন করার ক্ষেত্রে, একই সাথে আমাদের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম সর্বক্ষেত্রে নাট্যদলগুলোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মানুষকে উজ্জীবিত করতে নাট্যদলগুলো যে অসামান্য অবদান রেখেছে, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন তা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, যখন গণতন্ত্র বাক্সবন্দী হয়েছে, গণতন্ত্রের পায়ে শিকল বেঁধে দেয়া হয়েছে তখন দেশের নাট্যদলগুলো দেশের রাজপথে মানুষের মধ্যে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার স্পৃহা জুগিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা একটি উন্নত রাষ্ট গঠন করতে চাই। উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি উন্নত জাতিও গঠন করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সাংস্কৃতিক বিকাশ, যা নাটকের মাধ্যমে সম্ভব। মানুষের আত্মিক উন্নয়ন সাধিত না হলে টেকসই গণতন্ত্র কিংবা সাংস্কৃতিক আবহ কোনটাই তৈরী হবেনা। সেজন্য নাটক চর্চাকে আরও বাড়াতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষগুলো যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মধ্য থেকে মানবিকতা, সাংস্কৃতিক আবহ ধীরে ধীরে লোপ পাচ্ছে। মানুষকে যন্ত্র থেকে মানুষে পরিণত করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে নাটক। নাটক মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন ঘটাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, হয়তো অনেকে জানেন, অনেকে জানেন না, আমি যখন কলেজের ছাত্র তখন তীর্যক নাট্যদলের সদস্য ছিলাম। আমি যেহেতু স্কুল থেকে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করি। আমি যখন কলেজ ছাত্রলীগের সেক্রেটারী তখন থেকেই তীর্যকের সাথে যুক্ত হই। নাট্যদলে জড়িত হলেও কখনো নাটকের রোল পায়নি, আমার কাজ ছিল চেয়ার টানাটানি করা আর টিকেট বিক্রি করা। তবে তীর্যক নাট্যদলের সাথে আমার যে নাড়ীর সম্পর্ক তা কখনো ছিন্ন হবেনা । তারা আমাকে ডাকে, আমিও সবসময় সাড়া দেয়ার চেষ্টা করি। তারা আমাকে মনে রেখেছে সে জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে নাটকের ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের সাথেই আমার অনেক কাজ। তীর্যকে ছিলাম বলেই নাটকের মানুষজন আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। তাছাড়া কলেজ জীবনে আমি বাংলার মুখ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনেরও সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার পদচারণা সেই ছেলেবেলা থেকেই।
তীর্যক নাট্যদলের প্রধান আহমেদ ইকবাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আয়োজনের উদ্বোধন করেন পশ্চিম বঙ্গের নাট্য ব্যক্তিত্ব বিভাষ চক্রবর্তী।
এতে বক্তব্য রাখেন নাট্যাভিনেতা মামুনুর রশিদ, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তীর্যক নাট্যদলের পরিবেশনা দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে।
তীর্যক নাট্যদলের ৪৬ বছর পূর্তিতে আয়োজিত এ ৫দিনব্যাপী নাট্যমেলা চলবে ২৯ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন মঞ্চস্থ হবে একটি করে নাটক। তাছাড়া থাকবে সেমিনার, প্রদর্শনী ও নাট্য বিষয়ক নানা আলোচনা। এতে দেশের নাট্যাঙ্গনের বহু মানুষ অংশ নিবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
Developed By Muktodhara Technology Limited