image

আজ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং

কাউন্সিলর প্রার্থীদের সংঘর্ষে ব্যাহত মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১৭:৪৭, মার্চ ১৫, ২০২০

image

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধূরী নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারণা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এর কারণ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মারামারি, ঝগড়া। ইতোমধ্যে নগরীর ৩/৪টি ওয়ার্ডে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৫ নং রামপুরা ওয়ার্ড থেকে। বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে ঈদগা বড় পুকুরপাড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সবুর লিটন ও দলের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর এসএম এরশাদ উল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে পোষ্টার টাঙ্গানো নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদে মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

আহতরা হলেন বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ও লাটিম প্রতীকের সমর্থক সাইফুল হক টনি (৩০), নুরুন্নবী (২৫)। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সবুর লিটন ও টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকের সমর্থক মুরাদ (২০), ফারুক (২২), ও ইউসুফ (২৫)। 

পরের ঘটনা শুক্রবার (১৩ মার্চ) ২৮নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এলাকায়। এ এলাকায় রেজাউল করিম গণসংযোগ করতে গেলে সেখানে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর নজরুল বাহাদুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল কাদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার ( ১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর দক্ষিণ হালিশহর চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীসহ আহত হয়েছে ২ জন। আহত দু'জন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

আহতরা হলেন ৩৮ নম্বার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. হাসান মুরাদ (৫৫) ও তার ছেলে সাতমাম সামি (১৮)।

নগরীর যেসব ওয়ার্ডে দলের শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে সেসব ওয়ার্ডে এ ধরণের দ্বন্ধ সংঘাত লেগেই আছে। প্রকাশ্যে সংঘর্ষ না ঘটলেও অনেক ওয়ার্ডে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে অনাকাংখিত ঘটনা। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে দলীয় সমর্থন পাওয়া প্রার্থী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বাড়ছে। এভাবে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা বিঘিœত হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে দল সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে দু-চারটি ওয়ার্ডে এ ধরণের ঘটনা তেমন কোন বিরূপ প্রভাব ফেলছে না মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায়। এটা আমাদের দেশের নির্বাচনী কালচারেরই অংশ। তবে জনগণের স্বতষ্ফুর্ত অংশগ্রহণের কারণে এসব বিষয় একেবারেই নগন্য। এতে প্রচারণায় কোন ব্যাঘাত ঘটছেনা বলে তিনি দাবী করেন।

এধরণের সংঘর্ষ বা উত্তেজনা থামাতে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে সুজন বলেন, ইতোমধ্যে আমরা এসব প্রার্থীদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে। প্রশাসনকেও বলা হয়েছে, যে প্রার্থী বা তার সমর্থকরাই গন্ডগোল করার চেষ্টা করবে, তা যেন কঠোর হস্তে দমন করা হয়।

দল সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, যেসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে, মেয়র প্রার্থী কৌশলে সেসব এলাকায় গণসংযোগ করছেন। বেশী লোক সমাগম বা মিছিল এড়িয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছে ভোট চাইছেন।

উল্লেখ্য,দলের সিন্ধানের বাইরে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে থাকা বর্তমান কাউন্সিলররা হলেন ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের সাহেদ ইকবাল বাবু, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের জহুরুল আলম জসীম, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে সাবের আহমেদ, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডের এফ কবির মানিক, ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডের এস এম এরশাদ উল্লাহ, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের এইচ এম সোহেল, ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের আব্দুল কাদের, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের তারেক সোলায়মান সেলিম, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের হাসান মুরাদ বিপ্লব এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মাজাহারুল ইসলাম চৌধুরী।

এদিকে চট্টগ্রামের সাধারণ ভোটার ও দলের নেতাকর্মীদের আশঙ্কা এসব ওয়ার্ডে যেকোন সময় বড় ধরণের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবেনা। এসব ওয়ার্ডের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও তাদের অনুসারীরা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এবং দলীয় নেতাকর্মী হওয়ায় নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য ঢেলে দিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে দলের মনোনয়ন তথা আনুকূল্য পাওয়া প্রার্থীদের সাথে বিদ্রোহীদের এ বিতন্ডা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে সেটাই দেখার অপেক্ষা নগরবাসীর।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১২:৪১, মে ১৩, ২০২২

এক হাজার অটোরিক্সা ডাম্পিং করলো চট্টগ্রাম বিআরটিএ


image
image