image

আজ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং

চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীতে লকডাউনের সুযোগে প্যাকেজিং কারখানা দখল

প্রতিবেদক    |    ২৩:০৪, জুন ১৯, ২০২০

image

করোনার ভাইরাস সংক্রমণ রোধে রেড জোন হিসেবে লকডাউন উত্তর কাট্টলী। ফলে বের হতে পারছেন না চান মিয়া ডাক্তার বাড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন। এই সুযোগে তার মালিকানাধীন কোয়ালিটি বক্স নামে একটি প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

আকবর শাহ থানার ওসিকে এ বিষয়ে জানানো হয়। তিনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক। 

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে আকবর শাহ থানার জঙ্গল লতিফপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মীর আওলীয়া আবাসিক এলাকায় নব নির্মিতি শেড ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। এসময় তারা প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানটির করগেশন মেশিন, হ্যান্ড শেয়ারিং মেশিন, শিট পেস্টিং ও শিট প্রেশার মেশিন লুট করে। আলী নুর, আলী হোসেন, শফি উল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামালসহ একদল সন্ত্রাসীর উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। তারা প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের জায়গা বন্দকীর নোটিশ বোর্ড নিয়ে যায়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে চাইলে ওসি তা  নিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ অবস্থায় শুক্রবার দুপুর তিনটা থেকে এক থেকে দেড়শ জন সন্ত্রাসী নিয়ে জায়গা দখল করে নতুন করে সীমানা দেওয়াল নির্মাণ শুরু করে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রক্ষীদের মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। ২০ থেকে ৩০জন শ্রমিক কাজ করে এখানে। অন্যদিকে লাঠি সোটা-দেশিয় অস্ত্র নিয়ে প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসী টহল দিতে থাকে এখানে, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন বলেন, জঙ্গল লতিফপুর মৌজার জেএল নম্বর ৬৫, আরএস ৩১৫৩ বিএস খতিয়ান নম্বার ১৮৩৪ নামজারি খতিয়ান ১৮৩, আরএস ১৪১,১৪২,১৫৩ দাগের বিএস ৯৫,৯৬, ১৪৬, ১৪৮,১৫০ দাগের কেনা জায়গা থেকে বিএস ১৪৭ দাগের তিন গন্ডা জমি আমার ভোগ দখলে রয়েছে। সেখানে আমি প্যাকেজিং কারখানার জন্য নতুন শেড নির্মাণ করছি। গত ৪ জুন একদল সন্ত্রাসী কাজ বন্ধ করতে বলে। রাতের অন্ধকারে নির্মাণ সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ১৩ জুন আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানকে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে থানার লোকজনের উপস্থিতিতে আমার প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়। বিষয়টি আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলকে জানিয়েছি। জায়গা মালিকানার প্রয়োজনীয় সব দলীল আমার কাছে আছে। ওই জায়গা ব্যাংকে মডগ্যাজ দিয়েছি। জোর পূর্বক একটি পক্ষ দখল নিতে চাইছে। জায়গা পেয়ে থাকলে আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি হবে। কিন্তু থানার ওসি বেআইনি কাজে অপর পক্ষকে সহযোগিতা করছেন বলে তিনি দাবী করেন।   

ওয়ার্ড কাউন্সিলর নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, লকডাউনের কারণে আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বের হতে পারছে না। বিষয়টি সুরাহা করতে আকবর শাহ থানার ওসিকে ফোন করেছিলাম। তিনি আগামী সোম বা মঙ্গলবার উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। 

আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একই জায়গার দলিল দুইজনের কাছে আছে। তাই সেখানে স্থাপনা নির্মাণে নিষেধ করেছি। কিছু মেশিন থানায় নিয়ে এসেছি। কাগজপত্র মূলে যিনি জায়গার মালিক তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

জায়গার সংক্রান্ত সমস্যা নিরসন আদালতই করতে পারে জানালে ওসি বলেন, সিরাজ সাহেব আদালতে যাচ্ছেন না। অপরপক্ষ যেতে চাইলে এখন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ। তবে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানে আছি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখছি।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১২:৪১, মে ১৩, ২০২২

এক হাজার অটোরিক্সা ডাম্পিং করলো চট্টগ্রাম বিআরটিএ


image
image