image

আজ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান বিরোধে কর্মচারী অপহরণ : ব্যবস্থাপকের হস্তক্ষেপে মুক্তি (অডিও সহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১৬:২১, অক্টোবর ৩, ২০২০

image

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধে এক কর্মচারী অপহরণ ও বিমান বন্দর ব্যবস্থাপকের হস্তক্ষেপে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অপহৃত ও অপহরণকারী উভয়ই বিমান বন্দরের কর্মচারী।

ঘটনার বিবরণ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল (ই/এম) হেলপার ওয়াসিম শেখ গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ডিউটি শেষে বাসায় আসলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর কলোনীর রাস্তা থেকে অপহৃত হন। বিমান বন্দর ব্যবস্থাপক অফিসের অফিস সহায়ক ওসমান সিকদার বহিরাগত আট দশজন লোক নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ওয়াসিম শেখকে রাস্তায় মারধর করতে করতে মাইক্রোতে করে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনা জানাজানি হলে বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জাহান’র কঠোর হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ওসমান সিকদার।

কেন অপহরণ : বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ওয়াসিম শেখ’র ডিউটি ছিল রাত ৮টা থেকে। কিন্তু সকালে সে ডিউটি শেষে বিমান বিন্দর ত্যাগ না করে বিমান বন্দর কাস্টম হলে প্রবেশ করে। সকালে দুবাই থেকে আসা একটি বিমান অবতরণের পর সেখানে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি ও অপেক্ষার পর শৌচাগারে যায়। শৌচাগারে একটু অপেক্ষার পর বিমান বন্দর ত্যাগ করে। পরে বিমান বন্দর আবাসিক এলাকা থেকে দুপুরে অপহৃত হন। 

জানা যায়, ঐদিন দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটটি অবতরণের পর ৮টি স্বর্ণের বার হাত বদল হয়, যা রিসিভ করে ওয়াসিম শেখ। পরে সে গ্রহণকৃত বারগুলো ওসমান সিকদারকে না দিলে বাধে বিপত্তি। ওসমান সিকদার বারগুলো চাইলে ওয়াসিম শেখ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওয়াসিম শেখ বারগুলো সহাকারী মেকানিক্স(ই/এম) শাখা হুমায়ুন কবির নিয়ে গেছে বলে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ওসমান সিকদারের দাবী, শৌচাগার থেকে শুরু করে কাস্টম এরিয়া কোথায় কি ঘটেছে সব ফুটেজ রয়েছে তার কাছে। ফলে বিরোধ তৈরী হয়ে নিজেদের মধ্যে যা গড়ায় অপহরণ পর্যন্ত।

অপহরণের পর অপহৃত ওয়াসিম শেখ ফোন করেছিল সিন্ডিকেট এর আরেক সদস্য ই/এম শাখার সহকারী হুমায়ুন কবিরের নিকট। ফোনে তাকে বাঁচানোর জন্য মালগুলো ফেরত দেয়ার জন্য আকুতি করেছিল ওয়াসিম শেখ। ওয়াসিম শেষ বারবার কান্নাজড়িত কন্ঠে তাকে বাঁচানোর জন্য এক ঘন্টার মধ্যে শহরের যেকোন জায়গায় এসে মালগুলো ফেরত দিতে বলেছে। নইলে অপহরণকারীরা তাকে জানে মেরে ফেলবে বলে সে জানায়।

কে এই ওসমান সিকদার : ওসমান সিকদার চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের একজন অফিস সহায়ক মাত্র। ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে কাজ করার সুবাদে সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ব্যবস্থাপকও তার বিরুদ্ধে এক প্রকার চুপ থাকেন। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন এই ওসমান সিকদার। বিমান বন্দরে চোরাচালানের পাশাপাশি মাদক, ইয়াবাসহ নানা অপরাধমূলক ব্যবসার সাথে জড়িত ওসমান সিকদার। ইলেকট্রিক এন্ড মেকানিক বিভাগের সহকারী হুমায়ূন কবিরসহ আর কয়েকজন মিলে গড়ে তুলেছেন চোরাচালানের বড় একটি সিন্ডিকেট।

ওয়াসিম শেখ অপহরণের পর বিমান বন্দর ব্যবস্থাপক কিছুটা কঠোর হন ওসমান সিকদারের বিরুদ্ধে। তাকে কড়া নির্দেশ দেন বাসা থেকে বের না হওয়ার। কিন্তু সে অসুস্থ হওয়ার ভান করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে ওসমান সিকদার তার পার্টিদের সাথে দিব্যি আলোচনায় মত্ত রয়েছেন। একজন অফিস সহায়ক হয়েও ওসমান সিকদার বিমান বন্দরের সিসি টিভি ফুটেজ নিয়ন্ত্রণ বা দেখার সুযোগ পায় কিভাবে সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর গ্রামের বাড়ী হাটহাজারীতে ৭০লাখ টাকার অধিক মূল্যে জমি ক্রয় করেন। তাছাড়া নামে বেনামে শহরে ও গ্রামে রয়েছে তার প্রচুর সম্পত্তি। বিমান বন্দরের সামান্য একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর এত অঢেল ধন সম্পত্তির উৎস নিয়েও চলছে নানা কানাঘুষা।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন দিলে অপহরণের শিকার ওয়াসিম শেখ কথা না বলে লাইন কেটে দেন।

অভিযুক্ত ওসমান সিকদারকে একাধিকবার ফোন দিয়েও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কমিটি গঠন : এদিকে দিনে দুপুরে বিমান বন্দরের কর্মচারীকে প্রচন্ড মারধর ও অপহরণ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করার লক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ। স্টেশন কমিউনিকেশন অফিসার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ, এস্টেট অফিসার মশিউর রহমান এবং ভান্ডার রক্ষক ও ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারী মোজাম্মেল হক তুহিন’র সমন্বয়ে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

৮২টি বার আটক : নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারার বিরোধে দুবাই থেকে একই ফ্লাইটে আসা ৮২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। এ বারগুলোও ওসমান সিকদার সিন্ডিকেট’র বলে জানা গেছে। সম্প্রতি নিজেদের মধ্যে বিরোধ হওয়ায় যা ধরা পড়েছে কাস্টমস শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে।

বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজের কাছে এনামুল কবির (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে এই স্বর্ণগুলো উদ্ধার করে শুল্ক বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকতারা। 

৮২টি স্বর্ণের বার আটকের বিষয়ে শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে এক যাত্রীর কাছে স্বর্ণের বার আছে এমন তথ্যে অভিযান চালায়।

এদিকে স্বর্ণের বার নিয়ে অপহরণ এবং তদন্ত কমিটি গঠন বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক সরোয়ার ই জাহান বলেন, এ ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ঘটনা যদি না ঘটে থাকে তবে তদন্ত কমিটি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। যেহেতু কোন অপরাধ সংঘঠিত হয়নি, সেহেতু তদন্ত কমিটি গঠনের প্রশ্নই আসেনা।

১ অক্টোবর আটককৃত ৮২পিস স্বর্ণের বার আটকের সাথে পূর্বের ঘটনার কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কোন ধরণের সংশ্লিষ্টতা নাই।

বিমান বন্দর ব্যবস্থাপক ঘটনার কথা অস্বীকার করলেও অপহৃত ওয়াসিম শেখ বাঁচার জন্য ফোন করেছিল ই/এম শাখার সহকারী হুমায়ুন কবিরের কাছে। ১ ঘন্টার মধ্যে শহরে এসে মাল বুঝিযে দেয়ার জন্য কান্নকাটি ও অনুরোধ করেছিল সে কথোপকথনে। সে বলেছিল, নইলে তারা তাকে মেরে ফেলবে। প্রতিবেদকের হাতে তাদের সে কথোপকথনের অডিও ক্লিপও রয়েছে।

এদিকে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসিম শেখ কোন ধরণের অবহিতকরণ ছাড়াই অদ্যাবধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে ওসমান সিকদার চিকিৎসার নামে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছেন।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১২:৪১, মে ১৩, ২০২২

এক হাজার অটোরিক্সা ডাম্পিং করলো চট্টগ্রাম বিআরটিএ


image
image