শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২:০৩, অক্টোবর ৩১, ২০২০
চট্টগ্রাম নগরীতে দুর্ভোগের অন্যতম কারন জলাবদ্ধতা ও যানজট। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ দু’টি সমস্যা নিরসনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) পূর্ব বাকলিয়ার বলিরহাটে বারইখাল খনন প্রকল্প ও কুলগাঁওয়ে বালুছড়া বাস টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কাজ সম্পন্ন হলে এ প্রকল্পগুলো নগরবাসীর স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তি ঘটাবে।
চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ সকালে বাস্তবায়নাধীন এ দু’টি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক বলেন, এক সময়ের ক্ষুদ্র সমস্যা এখন মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা ও যানজট এর বড় প্রমাণ। চাক্তাই খাল দখল এবং দু’ডজন খাল বিলুপ্তি নগরীতে জলাবদ্ধতার আরেকটি কারন। এছাড়া মানুষ ও পণ্য পরিবহনের জন্য বড় টার্মিনাল না থাকায় যেখানে সেখানে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড যানজট সমস্যাকে আরো প্রকট করে তুলেছে। সেজন্য এ দুটি বিষয় মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী সেভাবে কাজ করতে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রকল্প দু’টির সুফল নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে এবং এ দু’টি প্রকল্প নগরীতে জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে আশার আলো বলে এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।
পূর্ব বাকলিয়ার বলিরহাটে বারই খাল খনন প্রকল্প জাইকার অধীনে ১৩’শ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি সরাসরি চাক্তাই খালের সাথে যুক্ত হবে এবং এ খাল হয়ে নগরীর পানি কর্ণফুলী নদীতে পড়বে। খালটির প্রশস্থতা ৬৫ ফুট। দু’পাশে থাকবে ২০ ফুট প্রশস্থ সড়ক ও ৬ ফুট প্রশস্থ ওয়াকওয়ে। বিগত ৬ বছর ধরে বিভিন্ন কারনে এ প্রকল্পটির কাজ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি প্রকল্পটি আবার চালু হয়েছে।
কুলগাঁও বালুছড়া ৮.১ একর জায়গার ওপর চসিকের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে বাস টার্মিনাল প্রকল্প । এ প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে চসিক ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগকে ১৩০ কোটি টাকা প্রদান করেছে। অধিগ্রহণ কাজ শেষ হলে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমগ্র উত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার মধ্যে বিদ্যমান যানজট সমস্যা আর থাকবে না। খুব সহজেই এ টার্মিনাল থেকে যাত্রীরা হয়রানিমুক্ত ও সহজলভ্য সেবা পাবেন।
এর আগে প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য যাবার পথে বহদ্দারহাট মোড়ে রাস্তার ওপর যত্রতত্রভাবে রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি ট্যাক্সির স্ট্যান্ড দেখে তিনি গাড়ী থেকে নেমে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে সাথে সাথেই রাস্তা যানজটমুক্ত হয়।
এ সময় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রকৌশলী মফিজুল ইসলামসহ চসিকের প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
Developed By Muktodhara Technology Limited