image

আজ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

আজগুবি গায়েবী বানোয়াট মিথ্যা মামলায় আসলাম চৌধুরীদের দমানো যাবেনা : আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ২২:৫২, ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২১

image

ফাইল ছবি

একের পর এক আজগুবি গায়েবী বানোয়াট মিথ্যা মামলায় আসলাম চৌধুরীদের মতো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের সাহসী বীর সৈনিকদের দমিয়ে রাখার মধ্য দিযে সরকার চিরস্থায়ী ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার যে দিবাস্বপ্নে মশগুল রয়েছে তা জনগণের আন্দোলনের মুখে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আসলামী চৌধুরীদের মতো বীর ও সাহসী জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক নেতাকে কোনকালেই নিশ্চিহ্ন করা যায়নি বলে জোর দাবী করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী (এফসিএ) মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার পুলিশ এবং প্রশাসনের সকল উইংসকে বিরোধী দল দমনে নিয়োজিত রেখে দেশে এক ধরণের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরী করেছে। শুধু বিএনপি কিংবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী সমর্থক নয়, সরকারের যারাই সমালোচনা করছে তাদের ওপর নেমে এসেছে অবর্ণনীয় নির্যাতন। পুরোদেশই আজ কারাগারে পরিণত হয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন।

আমির খসরু আরও বলেন, সরকার সমালোচনার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছেন। দেশের গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রনের মধ্য দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরী করে মানুষের সকল ধরণের মৌলিক অধিকার হরণ করে নিয়েছেন। নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে হত্যার জন্য একদিন এ সরকারকে জনগণের আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। 

শতাধিক মামলায় আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছিল, তাতে কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই জামিন পেয়ে গেছেন। কিন্তু তাকে মুক্তি না দিয়ে শতাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। জামিন নিতে গেলে সরকার বারবার সময়ের আবেদন করে। এর অর্থ হচ্ছে তাকে জেলে আটকে রাখা। এভাবে শুধু সময়ের আবেদন করে আসলাম চৌধুরীকে অন্যায়ভাবে পাঁচ বছর ধরে জেলে আটকে রাখা হয়েছে।’ আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে সরকার যা করছে তাতে বুঝা যায় দেশে কি চলছে। ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা-অর্থের ভাগাভাগির মহোৎসব চলছে। দেশে কোন সরকার নাই, আইনের শাসন নাই, মানুষের অধিকার নাই। আদালত ও পুলিশ সবাইকে সম্পৃক্ত করে ‘প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করছে।

আসলাম চৌধুরী সব মামলায় জামিনের পর মুক্তির আগমুহূর্তে নতুন আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর তথ্য দিয়ে আমীর খসরু বলেন, ‘জজ কোর্ট, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঁচ বছর পর সে সব মামলায় জামিন পেল। সবশেষ মামলায় জামিন পাওয়ার পরও গত ৩ জানুয়ারি তাকে আবার আট বছর আগের ঢাকার শাহবাগ থানার একটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। ওই মামলায় সে আসামিও ছিল না। আদালতে আবেদন করে পুলিশ তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখায়। তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। কিন্তু একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একমাসের সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করে।’যার শুনানি আগামী মার্চের ৯ তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত। কোন মামলায় সাজা না হওয়ার পরও সাজার চেয়েও বেশি কারাগারে এ নেতাকে আটকে রেখে সরকার তাদের কি মিশন বাস্তবায়ন করতে চায় আজ সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে কর্মকান্ডও একদিন আল-জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসবে বলে সতর্ক করেন সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যারা আসলাম চৌধুরীকে মামলা দিয়ে, আদালতে সময়ের আবেদন করে, নানা কৌশলে জেলে রাখছেন, তারা এই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসুন। আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে যা হচ্ছে, আল-জাজিরার মতো বিশ্বের সব জায়গা থেকে একদিন সেটা খবর হয়ে ওঠে আসবে। সেদিন আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। সুতরাং তার নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিন। তাকে মুক্তি দিন। বিশ্ব খুব ছোট হয়ে গেছে। বিশ্বের দৃষ্টিগোচরের বাইরে খুব বেশিদিন থাকা সম্ভব না। আজ না হয় কাল দায়ভার ভোগ করতেই হবে। 

খসরু বলেন, মাফিয়া রাষ্ট্রের যে সংজ্ঞা সেটা আজ বেশি পরিচিতি পেয়েছে। আসলাম চৌধুরীর সাথে যেটা হচ্ছে সেটা তো মাফিয়াদের কাজ। এর বাইরে তো কিছু নয়। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হলে কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু বিচার চাওয়াটাও মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক পক্রিয়ায় বিচার হলে আসলাম চৌধুরী ছয়মাসের মধ্যে জামিন হতো। কিন্তু বিচার চাওয়াটাও আজ মুশকিল হয়ে পড়েছে। আশা করছি, তারা মামলা থেকে সরে আসবে। এসব রাষ্ট্রের জন্য, দেশের জন্য ভাল না। দেশে বিদেশে সব জায়গায় খবর হয়ে যাচ্ছে। এটার জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে। দয়া করে নাগরিকের সঠিক আইনের অধিকার ফিরিয়ে দিন।
 
আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ সবসময় নিজের পথ বেছে নিয়েছে। ১৯৭১ সালে নিয়েছে, ভাষা আন্দোলনের সময় নিয়েছে, এরশাদের বিরুদ্ধে নিয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও নিয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনে যারা ছিল, জনগণ যখন সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরুর প্রস্ততি নিচ্ছিল, তখন তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল। সুতরাং জনগণ এবারও পথ বেছে নেবে, এই সরকারের বিরুদ্ধে ‘দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়ে গেছে। জেলায় জেলায় কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছি। যখন যা প্রয়োজন আমরা সময়মতো করব। রাজনৈতিক দল আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই এক না। আমরা তো কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না, আমাদের তো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।’

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১২:৪১, মে ১৩, ২০২২

এক হাজার অটোরিক্সা ডাম্পিং করলো চট্টগ্রাম বিআরটিএ


image
image