image

আজ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

ভিন্নধারার প্রশিক্ষনালয় চট্টগ্রাম ডবলুরিংয়ের ওসি মহসিনের `নৈশ প্রহরী স্কুল`

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১৩:২২, আগস্ট ৭, ২০২১

image

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনের নতুনধারার আয়োজন “নৈশ প্রহরী স্কুল“ ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে প্রশাসন ও নগরবাসীর হৃদয়ে। বেসরকারি পর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্বপালনকারী সিকিউরিটি গার্ড তথা প্রহরীদের নিয়ে চট্টগ্রাম তথা দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরণের প্রশিক্ষণ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যমত থানা ডবলমুরিংয়ের আওতায় রয়েছে বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ। এ থানার আওতায় রয়েছে ব্যাংক পাড়া খ্যাত আগ্রাবাদে সরকারী বেসরকারী অফিস, বড় বড় শপিংমল, গামেন্টস, শিল্পকারখানা, বহুতল বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনসহ নানাবিদ স্থাপনা। তাছাড়া আবাসিক এলাকায় সুউচ্চ দালান, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান রয়েছে এর পরিধিতে। এসকল প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে নিরাপত্তার দায়িত্বটি পালন করেন সিকিউরিটি গার্ড তথা নৈশ প্রহরীরা। তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে যথাযথ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন। প্রশিক্ষণের এ আয়োজনকে “নৈশ প্রহরী স্কুল“ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। 

এ প্রশিক্ষণের আওতায় নৈশ প্রহরীদের মোবাইলে অ্যাপস ডাউনলোড, এসএমএস পাঠানোর পদ্ধতি, ফোন নাম্বার সংরক্ষণ, জরুরী নাম্বারে ডায়াল পদ্ধতি, গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ নানা বিষয়ে তাদেরকে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। স্বল্প শিক্ষিত, কম শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত এসব নিরাপত্তাকর্মীরা কিভাবে সহজে থানার সাথে যোগাযোগ করবে এ বিষয়টি শিখিয়ে দেয়া হচ্ছে। একদম লেখাপড়া না জানলেও কেবল মোবাইল ব্যবহার করতে পারলেই খুব দ্রæততম সময়ের মধ্যে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে পারার কৌশল রপ্ত করানো হচ্ছে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে। থানার সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ পেয়ে প্রহরীরা নিজেদেরকে সাহসী ও প্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে তুলছেন যা ভবিষ্যতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।

প্রথমবারের মতো ভিন্নধারার নৈশ প্রহরী স্কুলের স্বপ্নদ্রষ্টা ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, একটি থানায় যত পুলিশ থাকে তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। অথচ পুলিশের পাশাপাশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দায়িত্বরত নৈশ প্রহরীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। আমার থানা এলাকায় কম করে হলেও ১হাজারের মতো নৈশ প্রহরী দায়িত্ব পালন করেন। তাদেরকে আমাদের সহায়ক হিসেবে যুক্ত করা গেলেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় অনেক সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। সেই চিন্তা ভাবনা থেকেই আমাদের এ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।

ওসি মহসিন বলেন, চোখ-কান খোলা রেখে রাতভর দায়িত্বপালন করা এসব কর্মীদের মোবাইলে আমরা সহজ যোগাযোগ পদ্ধতিটা শিখিয়ে দিচ্ছি। যাতে যেকোন দূর্যোগ-দূর্বিপাকে তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। এরজন্য সবার যে এনড্রয়েড মোবাইল বা দামি ফোন দরকার তা নয়, তাদের ব্যবহৃত যেকোন মোবাইলেই আমরা সে বিষয়টি সহজে সেট করে দিচ্ছি। ব্রিফিংয়ে তাদের মনোবল বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উৎসাহমূলক নির্দেশনাও দিচ্ছি। তারা বেশিরভাগই এতে খুশি।

তিনি আরও বলেন, এরা জানতো না তার এলাকায় কোন অপরাধ বা দূর্ঘটনা সংঘটিত হলে প্রথমে কাকে জানাবে। এ প্রশিক্ষণে তাদেরকে সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেয়া হচ্ছে। কৌশল অবলম্বন, গতিবিধির উপর নজরদারি, নিজেদের নিরাপদে রেখে পরিস্থিতির মোকাবেলাসহ খুঁটিনাটি বিষয়ে তাদেরকে উপযুক্ত করে তোলা হচ্ছে।

কেন এমন নতুনধারার স্কুলের চিন্তা মাথায় এসেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে সীমিত সংখ্যক লোকবল নিয়ে মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হয়। তখন চিন্তা করলাম আমাদের সহায়ক হিসেবে যদি এদেরকে কাজে লাগানো যায়, তাহলে আমাদের কাজ কিছুটা হলেও সহজতর হবে। সে চিন্তা থেকেই এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

কেমন সাড়া মিলছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সচরাচর তারাও কিছুটা দ্বিধাদ্বন্ধে ছিলো প্রথমে। পুলিশের কোন কাজে যুক্ত হওয়া নিয়ে চিন্তা করেছে। যখন তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, তারা খুশি, বুঝতে পেরে সবাই স্বেচ্ছায় সাড়া দিয়েছে। তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও কিছুটা চিন্তামুক্ত হতে পেরেছে। কারণ অপরাধীদের বাধা দেয়ার মতো লজিস্টিক সার্পোট তাদের সবার থাকেনা। সেক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা পেলে কাজটা তাদের জন্য সুবিধা হয় এটা বুঝতে পেরেছে।

উল্লেখ্য, ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন চট্টগ্রামবাসীর কাছে খুবই জনপ্রিয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। প্রথাগত পুলিশিংয়ের বাইরে এসে তিনি নানা সামাজিক-মানবিক, সচেতনতামূলক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে নগরজুড়ে অনন্য অবস্থান তৈরীতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। এর আগে কোতোয়ালী থানায় দায়িত্বপালনকালীন গত বছর করোনার সময়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খাবার, ওষুধ পৌঁছে দেয়া, রোগীদের প্রয়োজনে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া, টেলিমেডিসিন সেবাসহ নানা মানবিক উদ্যোগের কারণে তিনি নগরবাসীর হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। এর বাইরে হ্যালো পুলিশ, মানবিক পুলিশসহ ভিন্ন ভিন্ন ওয়েলফেয়ারমূলক কর্মসূচী নগবাসীর সাধুবাধ অর্জন করেছে। 

করোনাকালীন এবছর রমজানে ফ্রি ইফতার এন্ড সেহেরি শপ, লকডাউনে রোগী পরিবহনে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন ও সিএনজি সেবা তাকে নগরবাসীর আত্মজন হিসেবে অনন্য উচ্চতায় স্থান দিয়েছেন। তাছাড়া প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক ভিডিও, ছবি, স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে সচেতন করার তার যে আপ্রাণ চেষ্টা তা আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরীতে অবদান রাখছেন বলে অভিজ্ঞজনদের অভিমত।



image
image

রিলেটেড নিউজ

Los Angeles

১২:৪১, মে ১৩, ২০২২

এক হাজার অটোরিক্সা ডাম্পিং করলো চট্টগ্রাম বিআরটিএ


image
image